‘অবৈধ বহিরাগত ও নিয়োগকর্তাদের’ ধরিয়ে দিতে অভিবাসী পরিদর্শক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে ইসরায়েল। চলতি মাসে এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশটির জনসংখ্যা ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের এই ‘জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ’ এগিয়ে নেওয়ার জন্য ৩০ হাজার সেকেল বা ৮ হাজার ৮৪৫ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

এর মধ্যে রয়েছে অবৈধ অভিবাসীদের সনাক্ত, তদন্ত, ও গ্রেফতার করা। আগামী মার্চের পর থেকে এই কার্যক্রম শুরু করতে পারবে নাগরিকেরা। তবে সরকারের এই উদ্যোগ দেশের অভ্যন্তরেই সমালোচনার মুখে পড়েছে। আফ্রিকা ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম কোয়ার্টজ আফ্রিকা এই খবর নিশ্চিত করেছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী ইসরায়েলে ২৭ হাজার ইরিত্রিয়ান, ৭ হাজার ৭০০ সুদানি নাগরিক অবৈধভাবে বসবাস করছে। এসব অভিবাসীদের দাবি যুদ্ধ, নিপীড়ন ও বাধ্যতামুলক সেনা নিয়োগ থেকে বাঁচতে পালিয়ে এসেছে তারা। তবে ইসরায়েলের কর্মকর্তারা ‘তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ ও ‘ক্যান্সার’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

তারা বলছে, এসব অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা অর্থনৈতিক সুযোগ খোঁজার মাধ্যমে ইসরায়েলের সমাজ কাঠামো ও ইহুদি পরিচয়কে হুমকির মুখে ফেলছে। যদিও ইউএনএইচসিআরের মতে ২০০৯ সালে মাত্র ১০ ইরিত্রিয়ান ও একজন সুদানি নাগরিককে শরণার্থী মর্যাদা দিয়েছে ইসরায়েলে। সুদানের দারফুর থেকে আসা আরও ২০০ নাগরিক মানবিক মর্যাদা পেয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ আগে ইসরায়েল ঘোষণা করে আফ্রিকা থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীরা নিজেদের অথবা তৃতীয় কোনও দেশে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চাইলে তাদের টিকেট কেনা, নথি সংগ্রহ ছাড়াও প্রত্যেককে সাড়ে তিন হাজার ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এরপরও কেউ ফিরে না গেলে মার্চ মাস শেষ হলেই তাদের গ্রেফতার করা হবে।

তবে শরণার্থীদের এভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার সরকারি পরিকল্পনার সমালোচনা হচ্ছে ইসরায়েলের ভেতরেও। প্রায় পাঁচশো ইসরাইলি একাডেমিক ও ৩৫ জন প্রখ্যাত লেখক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের ফেরত না পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, দেশে কোনও শরণার্থী সমস্যা নেই, এমনকি তাদেরকে নেওয়ার মতো অর্থনৈতিক সামর্থ্যও রয়েছে। কাজেই এসব শরণার্থীদের কাজে নিয়োগ করা যেতে পারে। এছাড়া দেশটির কয়েকশ ইহুদি ধর্মবেত্তা বলেছেন, শরণার্থীদের লুকিয়ে রাখবেন তারা।

জাতিসংঘও সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ওইসব মানুষদের ফেরত পাঠানো হলে তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য