কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় অবস্থিত ভাসমান তেল ডিপো মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের বার্জ ১মাস যাবত তেল শূন্য রয়েছে। ইরি বোরো মৌসুমের শুরুতেই ভাসমান তেল ডিপোটি তেল শূন্য হয়ে পরায় ভরা ইরি-বোরো মৌসুমে এ এলাকায় তেলের সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় তেল ব্যবসায়ীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অপরদিকে এ অঞ্চলের ইরি-বোরো মৌসুমে মেঘনা বার্জ দীর্ঘদিন ধরে তেলশূন্য থাকায় ইরি-বোরো চাষ নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

১৯৮৯ সালে কুড়িগ্রামের চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তিনটি ভাসমান তেল ডিপো স্থাপন করা হয়। এ ডিপো তিনটির মাধ্যমে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও লালমনিরহাট জেলায় তেল সরবরাহ করে আসছিল। কয়েক বছরের মাথায় পদ্মা তেল কোম্পানীটি বার্জ মেরামতের অজুহাত দেখিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। এরপর থেকেই মেঘনা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানী দুটি এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে তেল সরবরাহ করে আসছে। গত কয়েক মাস পূর্বে মেঘনা পে্েট্রালিয়াম কোম্পানীর বার্জ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকায় স্থানান্তরিত করায় যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল না হওয়ার করানে কোম্পানীটির তেল বিক্রি কমে যায়।

তেল ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন মেঘনা বার্জটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকায় রাখার কারণে তেল পরিবহনে ব্যারেল প্রতি অতিরিক্ত ২শ টাকা খরচ করে ডিলারদেরকে তেল নিয়ে আসতে হতো। তারপরও মেঘনা সংশ্লিষ্ট ডিলাররা সেখান থেকেই তেল নিতেন। কিন্ত বর্তমানে তেল শূন্য হয়ে পরায় ডিলারগণ যমুনা ওয়েল কোম্পানীর বার্জ থেকে তেল নিচ্ছে। কারন এই সকল ডিলাররা যমুনা ওয়েল কোম্পানীরও এজেন্ট। মেঘনা ডিপোর ডিলারদের চাহিদা পুরন করতে গিয়ে যমুনা ওয়েল কোম্পানীর উপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এ অঞ্চলের জ্বালানী চাহিদা পূরনে যোগান দিচ্ছে একমাত্র যমুনা ওয়েল কোম্পানীর চিলমারী ভাসমান ডিপো।

কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও জামালপুর জেলার প্রান্তিক কৃষক, ক্ষুদ্র কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জ্বালানী চাহিদা শুধুমাত্র যমুনা ওয়েল কোম্পানীর একার মাধ্যমে সরবরাহ সম্ভব নয়। উপরন্ত চরাঞ্চলের কৃষকরা বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় শুধুমাত্র জ্বালানীর উপর নির্ভরশীল। তাই মেঘনা ওয়েল কোম্পানীটি তেলশূন্য থাকায় সুবিধাভোগীরা তেল সংকটের আশঙ্কা করছেন। তেল ব্যবসায়ী নজির হোসেন জানান, পার্বতীপুর ও বাঘাবাড়ি থেকে সড়কপথে তেল পরিবহন করলে লিটারপ্রতি ৮-১০ টাকা বেশি খরচ হয়। তাই জনগণের সুবিধার্থে তেলের মুজদ বাড়িয়ে এ অঞ্চলে জ্বালানী তেলের সংকট নিরসন করা দরকার।

এ ব্যাপারে মেঘনা ওয়েল কোম্পানীর ডিএস আবু সাঈদ জানান, উর্ধতন কর্তৃপক্ষ তেল সরবরাহ করলে বিতরনে কোন বাধা নাই। কোম্পানীর এজিএম (সাপ্লাইয়ার ও ডিস্ট্রিবিউশন বিভাগ) টিপু সুলতান জানান, নদীর নাব্যতা না থাকায় তেল ভর্তি জাহাজ পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। মেঘনা ওয়েল কোম্পানীর ডিজিএম মীর সাইফুল্লাহ আল খায়ের জানান, তেল ধারণকরা বার্জটিতে ছিদ্র দেখা দেয়ায় মেরামত করে তেল সরবরাহ করা হবে।

এদিকে যমুনা ওয়েল কোম্পানীর ডিএস আমজাদ হোসেনের সাথে কথা বলে জানাযায়, তাদের বার্জে তেল ধারন ক্ষমতা ৮ লক্ষ ২২ হাজার লিটার। তার কোম্পানীর তেলের সরবরাহ থাকায় আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমে একটু চাপের সৃষ্টি হলেও তা তারা সামলিয়ে নিতে পারবে। ফলে ডিপো সংশ্লিষ্ট এলাকায় ইরি-বোরো মৌসুমে তেলের কোন সংকট হবে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য