সাংবাদিক মাইকেল ওলফ তার নতুন বই ‘ফায়ার এন্ড ফিউরি’তে ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি গত সপ্তাহে এক টিভি অনুষ্ঠানে বলেন ট্রাম্পের সঙ্গে নিকি হ্যালির সম্পর্কের বিষয়ে ‘নিশ্চিত রয়েছেন’ তিনি। এরপরই অনলাইন আর ওয়াশিংটনে ছড়িয়ে পড়ে এই গুঞ্জন।

তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এই গুঞ্জনকে বিরক্তিকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। ভারতীয়-আমেরিকান হয়েও সাউথ ক্যারোলিনার গভর্ননের দায়িত্ব পালন করে আসা হ্যালি বলেছেন, এই পূর্বানুমান খুবই আক্রমণাত্মক।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের ভেতরের-বাইরের প্রায় ২০০ ব্যক্তির সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে মাইকেল ওলফ লিখেছেন ‘ফায়ার এন্ড ফিউরি’ বইটি। আলোচিত এই বইয়ের প্রকাশ বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনি প্রচেষ্টা নেওয়া হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। বই প্রকাশের আগেই এর একটি কপি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে পাঠিয়ে দেন প্রকাশক। পরে অবশ্য চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রকাশ পায় বইটি।

মাইকেল ওলফ তার নতুন প্রকাশিত বইয়েও দাবি করেছে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক ছিলো নিকি হ্যালির। তবে এই দাবিকে নিশ্চিতভাবেই সত্য নয় বলে পলিটিকোকে জানিয়েছেন হ্যালি। তিনি বলেন, ওলফ তার বইয়ে কিছু মৌলিক তথ্য বিভ্রাট ঘটিয়েছেন। ওলফ লিখেছেন, এয়ারফোর্স ওয়ানে হ্যালির সঙ্গে উলে্লখযোগ্য পরিমাণ সময় ব্যক্তিগত সময় কাটিয়েছেন’। তবে হ্যালি বলেন, ‘আমি একবারই এয়ার ফোর্স ওয়ানে গিয়েছি। আর সে সসময় আরও অনেকেই ওই কক্ষে ছিলেন।’

দুই সন্তানের মা ৪৬ বছর বয়স্ক হ্যালি ২০ বছর ধরে বিবাহিত জীবনযাপন করছেন। পলিটিকোকে তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্কের এই ইঙ্গিত সফল নারীদের প্রতি আক্রমণের বহিঃপ্রকাশ।

ট্রাম্প প্রশাসনের মন্ত্রী পদমর্যাদার চার নারীর একজন হলেন নিকি হ্যালি। গুঞ্জন আছে ভবিষ্যতে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী তিনি। ২০১৬ সালে নির্বাচনি দৌড়ে ট্রাম্পের কাছে তিনি হেরে বলেছিলেন, ট্রাম্পের অনুরাগী নই তবুও তাকেই ভোট দেবো।

পলিটিকোকে তিনি বলেন, ওলফ বলেছেন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওভাল অফিসে আমার রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে প্রচুর আলাপ করেছি। তবে আমি কখনওই আমার ভবিষ্যত নিয়ে একা আলাপ করিনি। আমি কখনওই তার সঙ্গে একা ছিলাম না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য