ভারতের বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় একজন নিহত ও অন্য এক ব্যক্তি আহত হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) উত্তর প্রদেশের কাসগঞ্জে চরম উত্তেজনা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সেখানে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।

ওই ঘটনায় চন্দন গুপ্তা (২২) নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ও নওশাদ নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছে।

রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আনন্দ কুমার বলেন, পুলিশ এ ব্যাপারে কমপক্ষে দু’ডজন লোককে আটক করেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আজ (শনিবার) সেখানে পুনরায় সহিংসতা সৃষ্টি হওয়ায় পাঁচ কোম্পানি পিএসি এবং এক কোম্পানি র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‍্যাফ) মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের এডিজি, আইজি ও ডিআইজি ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।

আজ (শনিবার) গণমাধ্যমে প্রকাশ, গতকাল (শুক্রবার) বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ কর্মীরা মথুরা-বেরেলি মহাসড়কে মোটর সাইকেলে করে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ বের করেছিলেন। এ সময় বাদু নগর এলাকায় স্লোগান দেয়াকে কেন্দ্র করে আপত্তি ও বিবাদের জেরে হিন্দু ও মুসলিম দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

 

পুলিশের অতিরিক্ত ডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) আনন্দ কুমার বলেন, আচমকা ওই ঘটনা ঘটেছে, এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত সহিংসতা নয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ওই এলাকায় আগেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটেছে। এলাকাটি স্পর্শকাতর হিসেবে পরিচিত। কিছুদিন ধরে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিগত ১৯৯৩ সালে এখানে ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে তা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার রূপ নেয় এবং পরে রাজ্যের অন্যত্র তা ছড়িয়ে পড়ে।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে শান্তি ও সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখার আবেদনসহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য