কথিত শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশ না নিলে ফিলিস্তিনিদের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে নতুন করে ফিলিস্তিনিদের সহায়তা বন্ধের হুমকি দেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, তিনিই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি কিনা শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সহায়তা তহবিল ইস্যুটির সংযোগ তৈরি করেছেন।

৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। ট্রাম্পের এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায় ফিলিস্তিন। প্রতিক্রিয়ায়

জানুয়ারিতে জাতিসংঘের ত্রান সংস্থায় ফিলিস্তিনি শরণার্থী সহায়তা তহবিলে মার্কিন বরাদ্দ অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে ফেলা হয়।পরে ফিলিস্তিনিদের জন্য ৪৫ মিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুত জরুরি খাদ্য সহায়তা দিতেও অস্বীকৃতি জানায় যুক্তরাষ্ট্র। গত মাসে পশ্চিম তীর/গাজা উপত্যকায় জাতিসংঘের ত্রাণ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) এর করা জরুরি আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। বৃহস্পতিবার নতুন করে সহায়তা বন্ধের হুমকি দিলেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার দাভোস সম্মেলনে মার্কিন সহায়তার বিনিময়ে ফিলিস্তিনিদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানান ট্রাম্প। দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনিদেরকে বছরে ‘সহায়তা বাবদ শত শত লাখ ডলার দেয়।’ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পাশে বসে থেকে ট্রাম্প বলেন, ‘ওই টাকা আলোচনার টেবিলে রাখা আছে। তারা শান্তি আলোচনায় না বসা পর্যন্ত ওই টাকা তাদের হাতে যাবে না। ট্রাম্পের দাবি, ইসরায়েল শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে ফিলিস্তিনিদেরও শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার কথা বলে মনে করেন তিনি। আর তা না হলে যুক্তরাষ্ট্রের আর কিছু করার থাকবে না বলে ফিলিস্তিনিদের সতর্ক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মার্কিন ‘শান্তি প্রস্তাব’কে ফিলিস্তিনিদের জন্য ‘সেরা প্রস্তাব’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসরায়েল কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে। জেরুজালেমের প্রসঙ্গ টেনে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি এক দিক দিয়ে জিতেছেন, আলোচনার সময় আপনি কিছু ছাড় দেবেন, যদি আলোচনা হয়। আদৌ সে আলোচনা হবে কিনা আমার জানা নেই।’

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতির সিদ্ধান্তটি নিয়ে আগের অবস্থানে অনড় রয়েছেন ট্রাম্প। জেরুজালেম প্রশ্নে আগের অবস্থান জোরালো করে তিনি বলেন, ‘জেরুজালেম ইস্যুটি আলোচনার টেবিলের বাইরে থাকবে। এ নিয়ে আমাদের আর আলোচনার প্রয়োজন নেই।’

সম্প্রতি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের সঙ্গে বৈঠক করতে রাজি না হওয়ায় ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি আমাদের ভাইস প্রেসিডেন্টের প্রতি অসম্মান’। ফিলিস্তিনিদের সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যখন আমাদের জন্য কিছু করে না তখন তাদের জন্য কেন আমরা কিছু করতে যাব?’

এদিকে ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় সাবেক ফিলিস্তিনি আলোচক সায়েব এরেকাত বলেছেন, ট্রাম্প টাকা দিয়ে ফিলিস্তিনিদের মর্যাদাকে কিনতে পারবেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন সাবেক ফিলিস্তিনি আলোচনাকারী সায়েব এরেকাত। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প তার টাকা দিয়ে অনেক কিছুই কিনতে পারেন, কিন্তু আমাদের দেশের মর্যাদাকে কিনতে পারবেন না।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য