ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট থেকে ফিলিস্তিনি সদস্যদের বের করে দেওয়ার সময় নকীবরা অপ্রয়োজনীয় বল প্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। সোমবার নেসেটে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের ভাষণের সময় প্রতিবাদ জানানোয় তাদের বের করে দেওয়া হয়। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‍মিডলইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।

ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে দেওয়া ভাষণে পেন্স বলেন, ‘সামনের সপ্তাহে আমাদের প্রশাসন জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস খোলার পরিকল্পনা শুরু করবে। আগামী বছর শেষ হওয়ার আগেই সেখানে মার্কিন দূতাবাস খোলা হবে।’

তবে ইসরায়েলি আরব সংসদ সদস্যদের প্রতিবাদের মুখে অল্প সময়ের জন্য পেন্সের বক্তব্য বাধাগ্রস্ত হয়। প্রতিবাদকারীরা আরবি ও ইংরেজি ভাষায় লেখা প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে প্রতিবাদ করতে থাকেন। তাতে লেখা ছিল, ‘জেরুজালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী’। পরে আন্দোলনকারীদের বের করে দেওয়া হয়। পেন্স সে সময় হাসিমুখে বলেন, ‘এমন অস্থির গণতন্ত্রের সামনে দাঁড়ানো আমার জন্য খুবই অপমানজনক’।

তার আগেই ইসরায়েলি পার্লামেন্টের শীর্ষ আরব দল সোমবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছিল তারা পেন্সের বক্তব্যকে বর্জন করবে। জয়েন্ট আরব লিস্ট দলের নেতা আয়মান ওদেহ এটাকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে দাবি করেন। পার্লামেন্ট থেকে বের করে দেওয়ার পর ইংরেজি ও হিব্রু ভাষায় পোস্ট দেওয়া এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘যারা দখলদারিত্বের বিরোধী ও শান্তির স্বপ্ন দেখেন তাদের সম্মানেই পার্লামেন্ট অধিবেশনে আমাদের আজকের এই প্রতিবাদ’।

পার্লামেন্ট থেকে বের করে দেওয়ার আগে ১৩ জন ফিলিস্তিনি সদস্য হাতে প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন। তাতে লেখা ছিল, ‘জেরুজালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী’। পরে নকীবরা তাদের ধরে বের করে দেয়। সে সময় মাইক পেন্সকে সম্মান জানিয়ে উঠে দাড়ান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নিতানিয়াহুসহ বাকি ইসরায়েলি ‍সদস্যরা।

জয়েন্ট লিস্ট দলের পার্লামেন্ট সদস্য জামাল জাহালকা অভিযোগ করেছেন, বের করে দেওয়ার সময় নকীবরা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। এক বিবৃতিতে জাহালকা বলেন, ‘নকীবরা আমাদের উপর নিষ্ঠুরভাবে হামলা চালিয়েছে। আমরা নিজেরাই হেটে বের হচ্ছিলাম। তারপরও তারা আমাদের ধাক্কা মেরে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দিয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, নেসেটের নিয়ম ভঙ্গ করে সম্মিলিতভাবে তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি বিবৃতিতে কোনও ইসরায়েলি আইনপ্রণেতার নাম উল্লেখ করেননি।

৬ ডিসেম্বর বুধবার জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। এই নিয়ে বিশ্বজুড়ে তুমুল নিন্দা ও প্রতিবাদ জারি রয়েছে।

ট্রাম্পের ওই বিতর্কিত ঘোষণার পরপরই জেরুজালেম, গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীরের রামাল্লা, হেবরন, বেথলেহেম, নাবলুস, কালকিলিয়া, তুলকার্ম ও জেনিনের রাস্তায় নেমে আসেন মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিরা। বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলে পড়ে ইসরায়েলি বাহিনী। হতাহত হন বহু বিক্ষোভকারী। তারপরও দমে যাননি মুক্তিকামী মানুষেরা। প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন তারা। এনিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভোট হলে মার্কিন স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যানের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১২৮টি দেশ। বিপরীতে ট্রাম্পের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় মাত্র ৯টি দেশ। ভোটদান থেকে বিরত ছিল ৩৫ দেশ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য