প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেল বা আইপিএস কোষ তৈরি করে যিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন সেই জাপানি অধ্যাপক শিনিয়া ইয়ামানাকার অধীনে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রবন্ধ কেলেঙ্কারিতে তার নাম জড়িয়েছে।

গত বছর বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সেল’ এর সহযোগী জার্নাল ‘স্টেম সেল রির্পোট’ এ প্রকাশিত প্রবন্ধ নিয়ে গবেষক কোহেই ইয়ামামিজুর বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের তদন্ত শেষ হওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে নোবেল জয়ী শিনিয়া ইয়ামানাকা নিজেই এ তথ্য জানান। যা নিয়ে পুরো জাপান জুড়ে আলোচনার ঝড় চলছে।

কিয়োতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টাল ফর আইপিএস সেল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশনের(সিরা) পরিচালক পদে থাকায় তার তত্ত্বাবধানে ওই প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয় বলে জানান ইয়ামানাকা। প্রবন্ধটিতে তার নাম না থাকলেও কেবলমাত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান হওয়ায় কিয়োতো বিশ্ববিদ্যালয় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন তিনি।

গত বছর ২৩ ফেব্রুয়ারি সিরার বিশেষ সহকারি অধ্যাপক কোহেই ইয়ামামিজুর গবেষণা প্রবন্ধ ‘ইন-ভিট্রো মডেলিং অব ব্লাড ব্রেইন ব্যারিয়ার উইথ হিউম্যান আইপিএস ড্রাইভড ইন্ডোথেলিয়াল সেলস, পেরিসাইটস, নিউরন আন্ড অ্যাস্ট্রোসাইটস নচ সিগন্যালিং’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। ওই গবেষণা প্রবন্ধে ব্যবহৃত ছয়টি চিত্র এবং অতিরিক্ত ছয়টি চিত্রের তথ্যে কৃত্রিমভাবে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়।

সিরার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গেল বছর ৩ জুলাই ওই প্রবন্ধের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর ১১ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি চলতি মাসের ৯ তারিখে তদন্ত শেষ করে।

এরপর সোমবার সংবাদ সম্মেলনে করেন অধ্যাপক ইয়ামানাকা।

তিনি বলেন, “আমি সত্যিই লজ্জিত যে আমার অধীনে একটি মিথ্যা গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। যা অসততার নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। আমরা দেখেছি যে প্রধান গবেষক কোহেই ইয়ামামিজু প্রবন্ধের আকর্ষণ বাড়াতে মিথ্যা তথ্য জুড়ে দিয়েছেন, যা পরবর্তীতে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে আমি এই দায়ভার এড়িয়ে যেতে পারি না। এর জন্য আমি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছি। যারা এই কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। সেখানে আমার বিরুদ্ধেও শাস্তি থাকবে।

“প্রবন্ধের প্রধান গবেষক ইয়ামামিজুর এই খামখেয়ালিপনার প্রভাব আশা করি আইপিএস ইনস্টিটিউটের উপর কোন প্রভাব পড়বে না। আমরা জার্নাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা প্রবন্ধটি তুলে নেবেন।”

এর আগে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে জাপানের প্রধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিকেন থেকে হারুকো ওবাকাতার নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে স্টেমুলাস ট্রিগারড অ্যাকুজুয়েশন অব প্লুরোপুটেন্সি (স্ট্যাপ) নামক এক প্রকার স্টেম সেল নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছিলেন।

নেচার কর্তৃপক্ষ ওবাকাতাকে গবেষণার সঠিকতা প্রমাণের জন্য তথ্য উপাত্ত দিতে বললে তিনি ব্যর্থ হন। আর এই নিয়ে সারা বিশ্বে তুমুল আলোচনা শুরু হলে ওই প্রবন্ধের এক সহযোগী গবেষক ও রিকেনের সহযোগী অধ্যাপক আত্মহত্যাও করেন। বাতিল হয়ে যায় নেচারে প্রকাশিত নিবন্ধটি।

আইপিএস কোষ হলো মানবদেহের এমন এক ধরনের কোষ, যাকে মানবদেহের যেকোন কোষে রূপান্তর করা যায়। এর ফলে কোনো দুর্ঘটনায় অঙ্গহানি হলে কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি করে তা সংযোজন করা সম্ভব হচ্ছে। আর এই বিশেষ ধরনের কোষ আবিষ্কারের জন্য অধ্যাপক শিনিয়া ইয়ামানাকা ২০১২ সালে চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য