যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কার্যক্রমে অচলাবস্থা শুরু হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের শত শত কর্মী কাজে যোগ দিতে পারছেন না।

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থা নিরসনে দেশটির সিনেট চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সরকারের বাজেট বাড়ানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে উত্থাপিত একটি বিল পাস না হওয়ায় দেশটির সরকারি কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

কর্মসপ্তাহ শুরু হওয়ার আগে রোববার রাতে সমঝোতায় পৌঁছানোর একটি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।

অচলাবস্থা শেষ করতে প্রস্তাবিত একটি ভোট সোমবার বিকাল পর্যন্ত (স্থানীয় সময়) স্থগিত করা হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় সরকারের বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেক দপ্তর বন্ধই থাকছে।

কর্মসপ্তাহ শুরুর আগে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর উদ্যোগে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও সিনেটের অধিবেশন চালু রাখা হয়; যা একটি বিরল ঘটনা।

কিন্তু উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান সিনেটররা পরস্পরকে দোষারোপ করতে থাকায় সমঝোতার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ডেমোক্রেটরা চায়, বাজেট নিয়ে সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিবাসন নিয়ে আপস করতে হবে, কিন্তু রিপাবলিকানরা বলছে, কেন্দ্রীয় সরকারের সেবাগুলো বন্ধ থাকায় কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়।

সীমান্ত নিরাপত্তা খাতে তহবিল বাড়াতে চায় রিপাবলিকানরা, এর মধ্যে মেক্সিকো সীমান্তে প্রস্তাবিত দেয়াল তোলাও অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি অভিবাসন প্রক্রিয়া সংস্কার করে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি করতে চায় তারা।

স্থানীয় সময় রোববার রাত সাড়ে ৯টায় সিনেটের অধিবেশ মুলতুবি করা হয়। অচলাবস্থা শেষ করতে সোমবার সকালে ভোট গ্রহণ করা হবে বলে প্রথমে সময়সূচী নির্ধারণ করা হয়েছিল, পরে তা ওইদিন বিকাল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।

কোনো সমঝোতায় পৌঁছতে ব্যর্থ হওয়ার মানে দাঁড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীরা অচলাবস্থা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত বিনাবেতনে ছুটিতে থাকবেন।

সোমবার গৃহায়ণ, পরিবেশ, শিক্ষা ও বাণিজ্য বিভাগের অধিকাংশ কর্মীকে বাসায়ই থাকতে হবে। পাশাপাশি অর্থ, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা ও পরিবহন বিভাগের অর্ধেক কর্মী কাজে যোগ দিতে পারবেন না।

কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা, ডাক বিভাগ, এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল, হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী, বহির্বিভাগের রোগীদের ওষুধ, দুর্যোগ সহায়তা, কারাগার, কর ও বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো জরুরি সেবাগুলো অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য