ভারতের শীর্ষ ফেরারি, ২০০৮ সালে গুজরাটে চালানো ধারাবাহিক বোমা হামলার আসামী আব্দুল সুবাহান কুরেশিকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

দিল্লির গাজিপুরে সংক্ষিপ্ত গোলাগুলির পর কুরেশিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সোমবার জানিয়েছে পুলিশ, খবর ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির।

গুজরাটের ওই বোমা হামলায় ৫৬ জন নিহত হয়েছিল।

একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী থেকে বোমা প্রস্তুতকারী বনে যাওয়া কুরেশিকে কখনও কখনও ‘ভারতের বিন লাদেন’ও বলা হয়।

আগামী শুক্রবার ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস। এর আগে কুরেশিকে গ্রেপ্তার করতে পারা একটি বড় ধরনের সাফল্য বলে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ।

পুলিশের স্পেশাল সেলের ডেপুটি কমিশনার প্রমোদ কুশওয়াহা বলেছেন, “কুরেশির কাছ থেকে পিস্তল ও নথি উদ্ধার করেছি আমরা। সে এসআইএমআই ও ভারতীয় মুজাহিদিনকে ফের চাঙ্গা করার চেষ্টা করছিল।”

পুলিশ জানিয়েছে, কুরেশি জাল পাসপোর্ট তৈরি করে নেপাল পালিয়ে গিয়ে সেখানে কয়েক বছর বসবাস করেছে, পরে ২০১৩ সালে সে সৌদি আরবে চলে যায় ও ২০১৫ সাল পর্যন্ত সেখানেই থাকে; সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে ওই বছর সে দেশে ফিরে আসে।

গত কয়েক বছর ধরে সারা ভারতজুড়ে আব্দুল সুবাহান কুরেশির খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে আসছিল ভারতীয় পুলিশ। কুরেশি ‘তৌকির’ নামেও পরিচিত।

তদন্তকারীরা তাকে ‘কম্পিউটার দক্ষ বোমারু’ বলে বর্ণনা করেছেন। সে নিষিদ্ধ ঘোষিত স্টুডেন্টস্ ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়ার (এসআইএমআই) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিল।

২০০৮ সালের ২৬ জুলাই আহমেদাবাদ ও সুরাটে বোমা হামলার পরিকল্পনার জন্য কুরেশিকে অভিযুক্ত করা হয়। ওই হামলায় প্রায় ২১টি বোমা টিফিন ক্যারিয়ার ও মোটরসাইকেলে করে বাজার, বাস স্টেশন ও হাসপাতালে রেখে দেওয়া হয়েছিল।

তিন সন্তানের জনক কুরেশিকে বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল বলে জানা গেছে, কিন্তু বাংলাদেশের পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

২০১৪ সালে ব্যাঙ্গালোরে বোমা হামলার পরিকল্পনা, ২০১০ সালে দিল্লিতে ধারাবাহিক বোমা হামলা এবং ২০০৬ সালে মুম্বাইয়ের একটি লোকাল ট্রেনে বোমা হামলার জন্য ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) শীর্ষ ফেরারির তালিকায় কুরেশির নাম ওঠে।

৪৬ বছর বয়সী কুরেশি মুম্বাইয়ে পড়াশোনা করেছিলেন এবং সফটওয়্যার কোম্পানিতে কাজ করতেন। পরে তিনি এসআইএমআইতে যোগ দেন। কুরেশির বাবা-মা কাজের উদ্দেশ্যে উত্তর প্রদেশ থেকে মুম্বাইয়ে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য