যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দেয়ার প্রথমদিনেও নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিলেন ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও বিরোধী ডেমোক্রেট পার্টির আইনপ্রণেতারা।

শুক্রবার শেষ মুহুর্তে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারের বাজেট বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব সিনেটে পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ না পাওয়ায় এ অচলাবস্থা দেখা দেয়। যার অর্থ পুরোপুরি কার্যকর একটি সরকারি ব্যবস্থাপনা ছাড়াই মেয়াদের দ্বিতীয় বছর শুরু করতে হচ্ছে ট্রাম্পকে।

ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় বাজেট বাড়ানোর প্রস্তাবটি সিনেটে প্রয়োজনীয় ৬০ ভোট পায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ক্ষমতাসীনরা এখন বলছেন, অচলবাস্থা নিরসনে ডেমোক্রেটদের সমর্থন পাওয়ার পরই তারা অভিবাসন নীতিমালা নিয়ে আপোষরফায় রাজি হতে পারেন।

অন্যদিকে বিরোধীদের চাওয়া, স্বল্পমেয়াদী যে কোনো বাজেট বৃদ্ধির প্রস্তাবেও ‘ড্রিমার’ নামে পরিচিত কাগজপত্রহীন তরুণ অভিবাসীদের সুরক্ষার বিধান রাখতে হবে।

চলমান পরিস্থিতিতে সরকারি অনেক কর্মীকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। কাউকে কাউকে নতুন করে তহবিল ছাড়ের আগ পর্যন্ত বেতন ছাড়াই কাজ চালিয়ে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেস একই দলের নিয়ন্ত্রণে থাকার পরও সরকারের বাজেট বাড়ানোর বিল অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হল।

এর আগে ২০১৩ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে সিনেটরদের মতবিরোধে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তহবিল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং ১৬ দিন পর্যন্ত ওই অচলাবস্থা চলেছিল।

তখন আট লাখের বেশি কর্মীকে অবৈতনিক ছুটিতে যেতে হয়েছিল; জাতীয় উদ্যান ও স্মৃতিস্তম্ভগুলোর রক্ষণাবেক্ষণেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল; যা নিয়ে দেখা দিয়েছিল জনরোষ।

অচলাবস্থার কারণে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট নভেম্বরের কংগ্রেসের নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কায় এ নিয়ে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ও উচ্চকক্ষ সিনেটে শনিবার এক বিরল অধিবেশন বসে।

শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায়ও দুই কক্ষই এ বিষয়ে সমঝোতায় ব্যর্থ হওয়ায় রোববার থেকে ওই অধিবেশন ফের শুরু হবে।

শনিবার দিন পুরো সময়েই রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটরা অচলাবস্থার জন্য একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়েছে।

সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের নেতা মিচ ম্যাককনেল জানান, সরকারি বাজেট ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর একটি প্রস্তাবে সোমবার সিনেটে ভোট হবে, যদি না ডেমোক্রেটরা এর আগেই এ বিষয়ে একমত হয়।

“কালও (রোববার) আমরা ফিরে আসবো এবং ডেমোক্রেটদের অচলাবস্থা কাটানোর প্রস্তাবিত ভোটে যতক্ষণ পর্যন্ত না আনা যায়, কাজ করবো,” বলেন ম্যাককনেল।

ক্যাপিটল ভবনের বাইরের স্থান, পার্ক, উন্মুক্ত মনুমেন্ট ও স্মিথসনিয়ান জাদুঘর অচলাবস্থার প্রথম দিনও খোলা ছিল; এর মধ্যেই ন্যাশনাল মলে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় বার্ষিক ওমেন্স মার্চ।

দর্শনার্থীদের ফিলাডেলফিয়ার লিবার্টি বেল, স্ট্যাচু অব লিবার্টি এবং নিউ ইয়র্ক হারবারের এলিস আইল্যান্ড থেকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

অচলাবস্থার কারণে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে হতে যাওয়া ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মন্ত্রিসভার কয়েক সদস্যের নির্ধারিত সফরের কাজ দৈনন্দিনভিত্তিতে অগ্রসর হবে বলে হোয়াইট হাউসের বাজেট বিষয়ক পরিচালক মিক মুলভানি জানিয়েছেন।

রিপাবলিকানরা বলছেন, ডেমোক্রেটরা সরকারি কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে ভোট দেওয়ার আগ পর্যন্ত তারা অভিবাসন বিষয়ে আপোষরফার আলোচনায় আগ্রহী নন।

“অভিবাসন বিষয়ক সংস্কারে প্রেসিডেন্ট ততক্ষণ পর্যন্ত ছাড় দেবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত ডেমোক্রেটরা খেলা বন্ধ করে সরকার চালুতে ভূমিকা না রাখে,” বলেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স।

অন্যদিকে ডেমোক্রেটরা বলছে, তারা রাজি হলেও রিপাবলিকানরাই সমঝোতায় আগ্রহী নয়। সিনেটের ডেমোক্রেট নেতা চাক শুমার বলেছেন, অনেকবারই রিপাবলিকানদের সঙ্গে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হলেও ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কট্টর অবস্থানের কারণে চুক্তি পিছিয়ে যাচ্ছে।

“প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া লক্ষ্য নিয়ে আলোচন অসম্ভব,” বলেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য