সুবল রায়, বিরল (দিনাজপুর) থেকেঃ দিনাজপুরের বিরলে প্রকৃতির রুপ বদলে যাচ্ছে। সোনালী ধানে কৃষকের গোলা ভরে উঠেছে। ঘরে ঘরে চলছে পিঠা পার্বন আর উৎসব। চলছে আগামী মৌসুমের ফসল চাষের প্রস্তুতি। সবুজ শ্যামল প্রকৃতির ষড়ঋতুর এই দেশে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে যেমনি প্রকৃতির রুপ বদলায়, তেমনি বদলায় ফসলের মাঠ। কখনো সবুজ, কখনো সোনালী, কখনো বা হলুদ এমনি ফসলের মাঠ পরিবর্তনের এ পর্যায়ে হলুদ সরিষা ফুলের চাদরে ঢাকা পড়ছে এ উজেলার ফসলের মাঠ।

সরিষা প্রধানত আবাদ হয় দোঁ-আশ ও বেলে-দো-ঁআশ মাটিতে বিশেষ করে নদী বিধৌত এলাকায়। অন্যান্য ফসলের তুলনায় এ অঞ্চলে সরিষা কম আবাদ হয়। বর্তমানে সরিষা একটি লাভজনক ফসলে পরিনত হওয়ায় ধীরে ধীরে সরিষা আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শীতের শিশির সিক্ত মাঠভরা সরিষা ফুলের গন্ধ বাতাসে ভাসছে। মানুষের মনকে পুলকিত করছে। সরিষার ক্ষেতগুলো দেখে মনে হয় কে যেন হলুদ চাদর বিছিয়ে রেখেছে। শরৎকালের মাঠে মাঠে সবুজের অপার সমারোহ এখন আর নেই। দিগন্ত জুড়ে সরিষা ফুলের দৃশ্য শোভা পাচ্ছে। সরিষা ও শীতকালীন সবজি মাঠের শোভা বর্ধন করছে।

সরিষা চাষীরা জানান, দেশীয় সরিষার জাতগুলোর চেয়ে উন্নত জাতগুলো ফলন বেশী হয়। গত বছর প্রতিমন সরিষা ১৮-১৯ শত টাকায় বিক্রি হয়েছে। সরিষার চাষ পদ্ধতি খুব সহজ ও কম খরচে অল্প সময়ে খুবই লাভ জনক ফসল। কার্তিক-অগ্রাহায়ন মাসে দু-একটি চাষ বা বিনা চাষেই জমিতে ছিটিয়ে সরিষা বীজ বপন করা হয়। সেচ ও সার লাগে কম তাছাড়া সরিষার পাতা একটি উৎকৃষ্ট জৈব সার। প্রতি বিঘায় ৪/৫ মন সরিষা হয়ে থাকে।

ভাল বীজ সনাক্ত করে সঠিক সময়ে বীজ রোপন করে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করে আগাম ফলন ফলিয়ে তা বাজার জাত করতে পারলে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে অধিক লাভ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেছেন এলাকাবাসী।

উপজেলা কৃষি অফিসার আশরাফুল ইসলাম জানান, এবারে সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। যদি আর কিছুদিন আবহাওয়া ঠিক থাকে তাহলে গতবারের চেয়ে এবারে সরিষার ফলন দ্বিগুন হবে। তবে এবারে সরিষার লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮০০ হক্টের। ফলন ১.৪২ টন হবে বলে জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য