মোঃ রজব আলী, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) থেকেঃ দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিক্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছেড়ে দেয়া (বর্জ) ছাই যুক্ত বিষাক্ত পানিতে ভরে গেছে, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংলগ্ন ফুলবাড়ী উপজেলার ৫টি গ্রামের ফসলের মাঠ, পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ধ্বংশ হয়ে গেছে বোরো বীজতলা। বিষাক্ত ছাই আর পানিতে মাঠ ভরে যাওয়ায়, বোরো রোপন করতে পারছেনা কৃষক। এই বিষাক্ত পানি ব্যবহার করতে গিয়ে চর্ম ও স্বাসকষ্ট রোগের শিকার হচ্ছে গ্রাম বাসীরা।

সরজমিনে দেয়া যায়, বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিক্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ, কয়লা পোড়ানো ছাই যুক্ত পানি রাখার পুকুর গুলো ভরে যাওয়ায়, সেই পানি মাঠের মধ্যে ছেড়ে দিয়েছে তাপ বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছেড়ে দেয়া বর্জ ছাই যুক্ত বিষাক্ত পানিতে ভরে গেছে, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংলগ্ন, ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রামভদ্রপুর, দুধিপুকুর, টুনির আড়াঁ, চককবীর ও গুচ্ছ গ্রামের ফসলের মাঠ।

সুধু তাই নয়, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছেড়ে দেয়া বিষাক্ত পানিতে, মরে গেছে বোরো বীজচারা, এই পানি ব্যবহার করায়, চর্ম ও স্বাসকষ্ট রোগের শিকার হচ্ছে গ্রাম বাসীরা। গ্রাম বাসীদের অভিযোগ, এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কয়েক দফা আবেদন করেও, কোন সাড়া মিলেনি তাপ বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের।

দুধিপুকুর গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলাম বলেন, এক মাস আগে হঠাৎ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র তাদের ছাই যুক্ত পানি ছেড়ে দেয়, সেই পানিতে ভরে যায় তাদের ফসলের মাঠ, এই পানির নিচে ডুবে গিয়ে তাদের বোরো বীজচারা নষ্ট হয়ে গেছে, সুধু তাই নয়, এই পানি ব্যবহার করতে গিয়ে তাদের হাতে-পায়ে এখন চর্মরোগ দেখা দিয়েছে, একই কথা বলেন দুধিপুকুর গ্রামের গৃহবধু মনোয়ারা বেগম, একই গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম ও ছামছুল আলম।

শিবনগর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়াড সদস্য সাইফুর ইসলাম বাবলু বলেন, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র হঠাৎ তাদের বর্জ ছাই যুক্ত পানি ছেড়ে দেয়ায়, সেই পানির নিচে তুলিয়ে গেছে তারসহ চককবীর গ্রামের, গোলাম মোস্তাফা, গাজি রহমান,সৈয়দ ইব্রাহিরসহ ৫০ জনের, বাঘধারা ডোবা নামক স্থানে তৈরী করা বোরো বীজচারা, বোরো বীজচারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা কিভাবে বোরো রোপন করবে তা ভেবে পাচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন এই পানি ব্যবহার করতে গিয়ে না না চর্ম রোগের শিকার হচ্ছে গ্রাম বাসীরা, এই পানি পার্শবর্তী তিলাই নদিতে ছেড়ে দেয়ায়, তিলাই নদির মাছ মরে গেছে ও জিববৈচিত্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনায় তারা তাপ বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষর নিকট কয়েক দফা আবেদন করেছেন, কিন্তু তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ কোন সাড়া দেয়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এটিএম হামিম আশরাফ এর নিকট এই বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বলেন, পানিতে যদি এসিড মিশ্রিত থাকে, তাহা হলে বীজচারাসহ ফসলের ক্ষতি হবে, কিন্তু সেই পানি এখনো পরিক্ষা করা হয়নি।

এই বিষয়ে কথা বলতে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মাহবাবুবুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে, তিনি বলেন গ্রাম বাসীদের আবেদন পাওয়া গেছে বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর পর আর কোন কথা বলতে তিনি রাজি হয়নি।

এদিকে গ্রামবাসীরা এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের দাবী, তাদের ফসরের মাঠ কিভারে রক্ষা হবে সেই বিষয়ে তাপ বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা নিবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য