ক্যারিয়ারের শুরম্ন থেকে বেছে বেছে মানসম্মত কাজই করে আসছেন সোহানা সাবা। তবে মাঝে বিবাহ বিচ্ছেদ, একমাত্র সন্ত্মানকে সময় দেয়াসহ বেশ কিছু ব্যক্তিগত ঝামেলার কারণে তিনি অভিনয়ে মন দিতে পারেননি। তাই নতুন বছরে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে কাজে মন দিয়েছেন। বর্তমানে অভিনয় নিয়েই তার সব ব্যস্ত্মতা। ছোট ও বড় দুই পর্দাতেই কাজ করছেন এই অভিনেত্রী। এরইমধ্যে হাতে নিয়েছেন দুই-তিনটি ধারাবাহিক নাটক। যার মধ্যে শুটিং শুরম্ন করছেন রাজু খানের পরিচালনায় ‘মধ্যবর্তিনী’ নাটকের।

এ ছাড়াও প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন সাবা। সম্প্রতি পুরান ঢাকায় টানা শুটিং শেষ করেছেন সাইফ চন্দনের নতুন সিনেমা ‘আব্বাস ও টু’ তে। এ প্রসঙ্গে সোহানা সাবা বলেন, ‘চলচ্চিত্র মানেই চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিনয় করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। এবার সেই চ্যালেঞ্জটা নিয়ে নিলাম।’

সাবা এতদিন বাণিজ্যিক ছবির প্রস্ত্মাব যে পাননি, তা নয়। তবে ইচ্ছে তেমন ছিল না। সাবার ভাষ্য, ‘বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিনয় করার প্রস্ত্মাব অনেক পেয়েছি। কিন্তু আমার কেন যেন মনে হয়েছিল আরও ভালো গল্পের জন্য অপেক্ষা করা উচিত। সাইফ চন্দনের ‘আব্বাস ও টু’ সিনেমায় আমার যে চরিত্রটা সেটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। ছবিটিতে আব্বাস চরিত্রে থাকছেন নিরব এবং চুটকি চরিত্রে রূপদান করেছি আমি। এবারই প্রথম দর্শকরা পর্দায় আমাদের কেমিস্ট্রি দেখবে।’

সোহানা সাবা মূলত বুলবুল ললিতকলা একাডেমি থেকে নাচ এবং ছায়ানট থেকে গান শিখেছেন। এরপর অভিনয়ে আসেন চিত্রনায়িকা কবরি’র পরিচালনায় ‘আয়না’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এরপর ‘খেলাঘর’, ‘চন্দ্রগ্রহণ’, ‘প্রিয়তমেষু’, ‘বৃহন্নলা’র মতো প্রশংসিত ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। শুধু দেশেই নয়, ওপার বাংলার সিনেমাতেও দেখা গেছে তাকে। তবে ‘আব্বাস ও টু’র আগে যেসব ছবি করেছেন তার কোনোটিই বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র ছিল না।

এদিকে অভিনয়ের পাশাপাশি এই প্রথমবারের মতো রেডিও জকি হিসাবেও কাজ করছেন এই তারকা। ইতোমধ্যে রেডিও টুডেতে নতুন একটি অনুষ্ঠান শুরম্ন করেছেন তিনি। যা হতাশাগ্রস্ত্ম মানুষদের জন্য। মানুষ হতাশ হলে নানা রকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ে বলে মনে করেন সোহানা সাবা। এ জন্যই প্রতি সপ্তাহের কোনো একটি দিন তাদের জন্য বের করবেন তিনি। নানা পরামর্শ দিয়ে থাকবেন তাদের পাশে। তার এই উদ্যোগের নামকরণ করেছেন ‘সাবা’স কনফেশন বক্স’ নামে এই অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায়ও থাকছেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

গত ঈদে সাবা অভিনীত নাটকের মধ্যে আছে আলভী আহমেদের ‘খায়রম্নজ্জামান বাবুর বিয়েঘটিত ইচ্ছেগুলো’। আয়নাবাজি সিরিজের নাটক রবিউল আলম রবি’র ‘মুখোমুখি’ নাটকগুলোসহ একাধিক নাটক প্রশংসা পায় তার। এ ছাড়াও তার অভিনীত দিপ্ত টিভির ধারাবাহিক ‘খেলাঘর’ নাটকটি বেশ আলোচনায় আসে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য