কানাডার সঙ্গে মিলে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য ভ্যানকউবারে কোরিয়া যু্দ্ধে জড়িত বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্র্যাটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়ার (ডিপিআরকে) আমেরিকান স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের একজন মুখপাত্র এই দাবি করেছেন। বলেছেন, মুখে সংলাপের কথা বললেও কোরীয় উপদ্বীপে যেকোনও মূল্যে আবারও যুদ্ধ বাঁধাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জিনঝুহা এ খবর জানিয়েছে।

২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গত ১১ বছরে এই নিয়ে ১০ বার নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়লো তারা। দেশটির অর্থনীতিতে এসব নিষেধাজ্ঞার বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এরপর গত ১৫ ও ১৬ জানুয়ারি কানাডার ভ্যানকউভারে এক বৈঠকে পরমাণু অস্ত্র পরিহারে বাধ্য করতে উত্তর কোরিয়ার উপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপে একমত হয় যুক্তরাষ্ট্রসহ ২০টি দেশ। আর সমঝোতায় না আসলে ‍উত্তর কোরিয়ায় সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টেলারসন। বৈঠকে দুই কোরিয়ার মধ্যে আলোচনাকে সমর্থন জানিয়ে তা উত্তেজনা কমাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। সমস্যাটি কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান প্রয়োজন ও তা সম্ভবও বলে একমত হয় দেশগুলো।

বৈঠকের বিষয়ে ডিপিআরকে’র আমেরিকান স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের মুখপাত্র বলেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ডিপিআরকে’র উপর চাপ বাড়ানোর বিষয়ে খোলাখুলি ঘোষণা দিয়েছেন। এজন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা উত্তর কোরিয়ার তেল ও শিল্পপণ্য রফতানি কমিয়ে দিয়েছে। এতে তারা সমুদ্রে নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে পারবে। এছাড়া পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য বিদেশে কর্মরত উত্তর কোরীয়দের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বৈঠকে যে বিষয়টি বলা হয়েছে তা হলো, মুখে সংলাপের কথা বললেও আসলে কোরীয় উপদ্বীপে যেকোনও মূল্যে আবারও যুদ্ধ বাঁধাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।’

নাম উল্লেখ না করে ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘চলমান আন্তঃকোরীয় শান্তি প্রচেষ্টাকে দেশ-বিদেশের সবাই পুরোপুরি স্বাগত জানালেও কয়েকটি দেশে এমন অবৈধ বৈঠকে অংশ নিয়েছে। তবে উত্তর কোরিয়ার উপর আবার কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে এসব দেশকে তার নির্মম পরিণতি ভোগ করতে হবে।’

জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী পরমাণু ও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে উ. কোরিয়া। তবে দক্ষিণে থাড নামে পরিচিত উচ্চ প্রযুক্তির মিসাইল প্রতিরোধ ব্যবস্থা মোতায়েন নিয়ে ২০১৬ সালের বছরের জুলাইয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে দেশটি। এর জবাবে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুরু করে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার বিপরীতে একে তারা যোগ্য জবাব (ফিজিক্যাল রেসপন্স) বলে মনে করে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য