রাখাইনে সহিংসতার মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে মিয়ানমার। শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইটস অব মিয়ানমার এ খবর জানিয়েছে।

রাখাইনে প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি কাজ পরিদর্শন করেন প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী নাই পু। তিনি প্রত্যাবাসন শিবিরগুলো নির্মাণ কাজের অগ্রগতি দেখেন। এ সময় তিনি শিবিরের ভবন, মেডিক্যাল ক্লিনিকস ও স্যানিটেশন অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ শেষ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

সংবাদমাধ্যমটি একটি ছবিও প্রকাশ করে। ছবিতে দেখা গেছে, প্রতিনিধি দলটিসহ মন্ত্রী দীর্ঘ একটা কাঠের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এখানেই ফেরত আসা রোহিঙ্গাদের রাখা হবে। ঘরের পেছনে কাঁটা তারের বেড়া রয়েছে।

মঙ্গলবার থেকে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া শুরু করবে। আগামী দুই বছর পর্যন্ত তা চলবে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার চুক্তির আলোকে এই প্রত্যাবাসন হবে।

এর আগে ১৫ জানুয়ারি সংবাদমাধ্যমটির খবরে বলা হয়েছিল, রাখাইনে সহিংসতার মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের ফেরত নেওয়ার সময় তাদের অস্থায়ী শিবিরে রাখা হবে। এ জন্য দেশটির সরকার ৩০ হাজার রোহিঙ্গার জন্য একটি অস্থায়ী শিবির নির্মাণ করছে। ১২৪ একরে ৬২৫টি ভবন নিয়ে নির্মিতব্য এই অস্থায়ী শিবিরে ৩০ হাজার মানুষকে রাখা যাবে। জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে প্রায় ১০০টি ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরানোর প্রস্তুতি শেষ করে নিয়ে আসলেও চলমান সামরিক অভিযানের মুখে এখনও অনেকে রাখাইন ছেড়ে পালাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তাদের মতে, শতাধিক রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন এবং আরও আসছেন।

গত বছরের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায় আরসা সদস্যরা। জবাবে ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত অঞ্চলে অভিযান জোরদার করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। স্থানীয় বৌদ্ধদের সহায়তায় সেখানে বহু বাসিন্দাকে হত্যা ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, এই পর্যন্ত অভিযানের কারণে প্রতিবেশি বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক। জাতিসংঘ ওই অভিযানকে জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এতোদিন মিয়ানমার ও দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের নিপীড়নের কথা অস্বীকার করলেও কয়েকদিন আগে সেনাপ্রধান ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যা চার সেনা সদস্যের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য