রেলওয়ে জমি অবৈধ দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদ করে রেলওয়ে অনুকূলে আনায়ন এবং ভবিষ্যতে দখল রোধে করণীয় বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) কার্যালয়ের হলরুমে সৈয়দপুর রেলওয়ে বিভাগের উদ্যোগে ওই সভার আয়োজন করা হয়।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) মুহাম্মদ কুদরত-এ-খুদার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল চীফ এস্টেট কর্মকর্তা আবদুল মান্নান, সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন, সৈয়দপুর পৌর মেয়র অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বজলুর রশীদ, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আলহাজ্জ মো. বখতীয়ার কবির, পৌর কাউন্সলর এরশাদ হোসেন পাপ্পু, সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল ইসলাম বাবু, নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স এ- ইন্ডাষ্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা, ব্যবসায়ী নেতা ইমতেয়াজ, আলহাজ্জ আফতাব আলম জুবায়ের, রাজ কুমার পোদ্দার রাজু, ইদ্রিস আলী, সাবেক পৌর কাউন্সিলর সুলতান খান ঢেনু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রুহুল আলম মাষ্টার, ব্যবসায়ী আবুল কালাম মিন্টু, সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল হক, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সাত্তারসহ সভায় সৈয়দপুর শহরের জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সুধীজন, সাংবাদিক ও রেলওয়ে বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভার শুরুতেই স্বাগত বক্তব্যে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চীফ এস্টেট কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জানান, সৈয়দপুরে রেলওয়ে বগি ও ওয়াগন মেরামতকরণের একটি কারখানা রয়েছে। এখানে রেলওয়ে বগি তৈরির জন্য আরো একটি নতুন কারখানার স্থাপিত হবে। সম্পূর্ণ ভারতীয় ঋণের অর্থে স্থাপিত হবে এটি। ইতোমধ্যে ওই নতুন বগি তৈরির কারখানা নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে।

এখন কারখানার সম্ভাব্য স্থান নির্বাচনের জন্য উভয় দেশের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি টিমের সদস্যরা সৈয়দপুরে অবস্থান করছেন। মূলতঃ সৈয়দপুরে রেলওয়ের অব্যবহৃত জায়গায় নতুন কারখানাটি নির্মাণ করা হবে। নির্মিতব্য নতুন রেলওয়ে কারখানার জন্য রেলওয়ে অব্যবহৃত অনেক জায়গা জমির লাগবে।

পাশাপাশি নতুন নির্মিত রেলওয়ে কারখানায় নিয়োগপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের বসবাসের জন্যও প্রয়োজন পড়বে বেশ কিছু বাসা বাড়ির। আর এজন্য সৈয়দপুরে রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ অবৈধ জমি ও কোয়ার্টার দখলমুক্ত করতে হবে। এসব সার্বিক বিবেচনায় নিয়ে সভায় উপস্থিত সকলের সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতা কামনা করা হয়।

সভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা নতুন কারখানা নির্মাণের প্রয়োজনে রেলওয়ের অবৈধ দখলকৃত জমি ও কোয়ার্টার দখলমুক্ত করতে সব রকম সাহায্য-সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। তবে তারা রেলওয়ের অপ্রয়োজনীয় ও অব্যবহৃত জায়গায় যাদের দখলে রয়েছে তাদের মধ্যে সহজ শর্তে হস্তান্তরের দাবি জানান। এছাড়াও বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক সৈয়দপুর পৌরসভাকে প্রদত্ত ২৫ দশমিক ২ একর জায়গাও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশা হস্তান্তরের দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার কতিপয় অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সহযোগিতায় গোটা শহরে রেলওয়ে জায়গার ওপর গড়ে ওঠেছে বহুতল ভবন। বারবার উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েও কর্তৃপক্ষ কেন যেন ব্যর্থ হয়। সচেতন মহলের ধারণা ওই সকল অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারী মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রেলওয়ে সরকারি জায়গাগুলো বেদখলে সহযোগিতা করেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য