ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিলেও বছরখানেকের মধ্যে তা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ভারত সফররত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বছরের মধ্যেই মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে আসছে বলে সাংবাদিকদের ইঙ্গিত দেওয়ার পর এ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

জেরুজালেম বিষয়ে কয়েক দশক ধরে অনুসৃত মার্কিন নীতি বদলে ফেলে ডিসেম্বরে শহরটিকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর আদেশও দেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের বিবাদপূর্ণ অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা উসকে দেয়; ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়াকে বিপদে ফেলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় যুক্তরাষ্ট্রের আরব ও ইউরোপীয় মিত্ররা।

মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাছে পবিত্র শহর হিসেবে পরিচিত জেরুজালেম নিয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের দ্বন্দ্ব বেশ পুরনো। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েলের দখলে থাকা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে চায় ফিলিস্তিনিরা। অন্যদিকে তাদের রাজধানী হিসেবে পুরো জেরুজালেমকেই দাবি করে আসছে ইসরায়েল।

কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুজালেমের ওপর ইসরায়েলের দখলদারিত্ব অনুমোদন করেনি।

গত মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস সরানোর কার্যক্রম ‘বোধহয় তিন বছরের আগে হবে না, এ সময়সীমাও বেশ উচ্চাভিলাষী হয়ে যায়’।

নতুন দূতাবাসের জন্য জায়গা খোঁজা, তার নিরাপত্তা বিধান করা এবং কূটনীতিকদের বাসস্থান নির্মাণে ন্যুনতম এ সময়সীমা প্রয়োজন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

বুধবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তার সঙ্গে ভারত সফরে থাকা সাংবাদিকদের বলেন, “আমার মূল্যায়ন হচ্ছে, এটা (মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর) আপনাদের ধারণার চেয়েও দ্রুতগতিতে হবে। এখন থেকে বছরখানেকের মধ্যেই হবে।”

ওই মন্তব্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে ট্রাম্প রয়টার্সকে বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী দ্রুতগতিতে দূতাবাস সরছে না।

“এ বছরের শেষে? আমরা ভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছি। অস্থায়ী ভিত্তিতে এটা হয়তো হতে পারে। যদিও আমরা তেমনটা চাচ্ছি না। এটা হবে না,” বলেন ট্রাম্প।

তিনি আরো বলেন, “নতুন দূতাবাসটি চমৎকার হবে, তবে অবশ্যই এক দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার খরচ করে নয়।”

লন্ডনে নির্মিত নতুন মার্কিন দূতাবাসের খরচের দিকে ইঙ্গিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ মন্তব্য করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য