শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব আর অব্যহত শীতের দাপুটে আচরণে এ অঞ্চলের আলু ক্ষেতে ব্যাপক হারে দেখা দিয়েছে মড়ক (পচন) রোগ। এতে করে রংপুরের বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাধারণ কৃষকরাসহ বর্গা চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। পচন রোগের কারণে আলুর পাতা ও কালো কালো ফোসকা পড়ে মরে যাচ্ছে তরতাজা উঠতি সবুজ গাছ। এ রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়লে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছেন আলু চাষীরা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রংপুর জেলায় ৫১ হাজার ২৭৫ হেক্টর, লালমনিরহাটে ৫ হাজার ৩৮৫ হেক্টর, কুড়িগ্রামে ৬ হাজার ২৩১ হেক্টর, নীলফামারীতে ২২ হাজার ২৭০ হেক্টর ও গাইবান্ধায় ৭ হাজার ৫৮৭ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় বেশী। কৃষকরা ওই সব জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু চাষ হয়েছে।

স্থানীয় কৃষিবিদ কর্মকর্তারা বলেছেন, বর্তমানে আলুর গাছগুলো সবুজ রং ধারণ করে সজীব হয়ে উঠেছে। ঠিক সেই মুহূর্তে গত কয়েক দিন থেকে ঘন কুয়াশা ও কনকনে তীব্র শীতের সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় আলু ক্ষেতে আলুর মড়ক বা পাতা পচন রোগ দেখা দিয়েছে।

রংপুর মহানগরীর উত্তম হাজিরহাট, কোবারু, বুড়িরহাট, বাহাদুরসিংহ, গোয়ালু, অভিরাম, মনোহরপুর, তামপাট, মহিন্দা, জোড়ইন্দা, নব্দিগঞ্জ, সাহেবগঞ্জ, আরাজী তামপাট, কাইদাহারা, হারাগাছ, দেউতিসহ জেলার অধিকাংশ এলাকার কৃষক আলুক্ষেত রক্ষায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কৃষকরা আক্রান্ত আলু ক্ষেতে ছত্রাক নাশক স্প্রে করেও সুফল পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তারা।

রংপুরের অভিরাম এলাকার আজাদ, ফরিদুল, গোয়ালু এলাকার নুর আলম ও আইয়ুব আলী কৃষক জানান, তারা প্রত্যেকে প্রতি বছর ৫ থেকে ৬ বিঘা করে জমিতে আলু লাগিয়ে থাকেন। কিন্তু এখন আলুর বাড়ন্ত মুহূর্তে বৈরী আবওহাওয়ার কারণে পচন রোগে আলুর ফলন নিয়ে শঙ্কিত তারা।

তামপাট এলাকার কৃষক নুরুল ইসলাম, আশরাফুল আলম, সোহেল মিয়া, সোবহান মিয়াসহ ও শফিকুল ইসলাম জানান, গত বছর দুই বিঘা জমিতে আলু আবাদে ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও এবার সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় বিঘা প্রতি অন্তত চার হাজার টাকা খরচ বেড়েছে।

উদ্যান বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ খোন্দকার মেসবাহুল ইসলাম বলেন, ঠান্ডা আবহাওয়া আলু চাষের জন্য উপকারী কিন্তু একটানা ঘন কুয়াশা আর শৈতপ্রবাহে এ ফসলের জন্য ক্ষতিকর। ঘন কুয়াশা থাকলে আলুক্ষেত ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয় বলেও জানান তিনি।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, এ ব্যাপারে কৃষকদের সচেতন করার লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ আলুর মড়ক বা পচন কিংবা নাবি ধ্বস রোগ দমনে কৃষকদের করণীয় বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছে। সেই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে যোগাযোগও অব্যাহত রেখেছেন। কৃষি সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যার জন্য কৃষকদের কৃষি বিভাগের কাছ থেকে পরামর্শ নিতেও অনুরোধ করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য