কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বন্যা পরবর্তীতে দুধকুমর নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ভূমিগুলো এখন যেন কুসুম ফুলের বাগান মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যে ভরপুর এসব তঅরবর্তী অঞ্চল। চোখ জুরানো এসব দৃশ্যে আন্দোলিত হয় মন।

এই কুসুম ফুলকে স্থানীয়ভাবে অনেকেই তীল, তীষি, সয়াবিন ও গুজিতীলনামেই চেনে। বন্যা পরবর্তীতে বন্যার ক্ষতি পুশিয়ে নিতে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা সরিষার বিকল্প হিসেবে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় বেছে নিয়েছে এই চাষ।

সেই কুসুম ফুলের হলদে রংয়ে যেন হলুদিয়া বধু সেজেছে উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে জেগে উঠা অববাহিকা এবং নিম্ন চরাঞ্চলের পলিযুক্ত জমিগুলো। সরকারি পৃষ্টপোষকতা ছাড়াই প্রতিবছরই বাড়ছে তৈলবীজ জাতীয় এ শস্যের চাষ। এর আগে এ এলাকায় কুসমু ফুলের চাষ সল্প পরিসরে হলেও এখন তা বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। কুসুম ফুলের বীজকে সরিষার তেলের বিকল্প এবং চাষাবাদেও সল্প ব্যয় ও অল্প পরিচর্যায় ফসল ঘরে তোলা যায়, তাই কুসুম ফুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে এমনটি জানালেন চরাঞ্চলের চাষীরা।

উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদীর অবাহিকাও চরাঞ্চলীয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে- কুসুম ক্ষেতের হলদে ফুলের হলদে রংয়ে যেন হলুদময় বিস্তৃত মাঠ। সকাল আর পরন্ত বিকেলের সোনালী রোদ যেন হলদে রংয়ের চাঁদর বিছিয়ে দেয় কুসুম ফুলের ডগায় ডগায়, যা দেখে চোখ জুড়ে যায় প্রকৃতীপ্রেমীদের।

সল্প ব্যয়ে, সল্প পরিচর্যায় বেড়ে উঠা এ শষ্যটি বিঘা প্রতি ফলন হয় ৪-৫ মণ। মণ প্রতি বিক্রি হয় ২ হাজার ৫শ থেকে ২ হাজার ৭শ টাকায়। তবে সরকারি পৃষ্টপোষকতায় শষ্যটি চাষাবাদ করা গেলে বিঘা প্রতি এর ফলন যেমন আরো অনেকটা বেড়ে যাবে-তেমনই চাষাবাদেও আরো অনেকেই এগিয়ে আসবে এমনটিও জানিয়েছে কৃষকরা।

উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের শৌলমারী এলাকার কৃষক আব্দুল মালেক, কেদার ইউনিয়নের টেপারকুটি গ্রামের কৃষক মাহাবুর জানায়, সরকারি পৃষ্টপোষকতা ছাড়াই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তারা অনেক আগে থেকে এ শস্যের চাষ করছে। যা থেকে নিজেদের ভোজ্য তেলের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি উপার্জন করেন। এ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে অনেকেই কুসুম চাষে এগিয়ে আসছে দিনদিন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান সরকার জানান, কুসুম ফুল বা গুজি তীলের চাষ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সে রকম প্রচলন নাই। তবে এ উপজেলার নদী তীর এবং চরাঞ্চলে কৃষকরা নিজ উদ্যোগে এর চাষ করে থাকে। এই শস্যের তেল ভোজ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যার পুষ্টিগুন অন্যান্য ভোজ্য তেলের চেয়ে ভালো।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য