আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ সাঁওতালদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, তিনজন সাঁওতাল হত্যাকান্ডের বিচার, সাঁওতালদের পৈত্তিক সম্পত্তি ফিরে দেয়াসহ ৭দফা দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের প্রত্যেকটি জেলা শহরের শহীদ মিনারে আদিবাসী-সাঁওতাল ও বাঙ্গালিদের গনঅবস্থান কর্মসচীর অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার গাইবান্ধা শহীদ মিনারে গনঅবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম-ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ,বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন, জনউদ্যোগ ও আদিবাসী বাঙ্গালী সংহতি সমাবেশ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

গোবিন্দগঞ্জ সাঁওতাল পল্লীর মাদারগঞ্জে সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষ,

সিপিবি সাবেক জেলা সভাপতি ওয়াজিউর রহমান রাফেল,আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহবায়ক এ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, জেলা সিপিবি সাধারণ সম্পপাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল,জেলা বাসদ সমন্বয়ক গোলাম রব্বানী, জাসদ (জেএসডি) সভাপতি লাসেন খান রিন্টু, জনউদ্যোগ গাইবান্ধার সদস্য সচিব প্রবীর চক্রবর্তী, জেলা কৃষক সমিতি সভাপতি সুভাষ শাহ রায়,ক্ষেতমজুর নেতা হাফিজার রহমান দুদু,মহিলা পরিষদে জেলা সভাপতি আমাতুর নুর ছাড়া,বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গাইবান্ধা জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল গণি রিজন,আদিবাসী নেতা বার্নাবাশ,প্রিসিলা মুরমু,স্বপন শেক, সুফল হেমব্রম,হবিবুর রহমান,সিপিবি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম জেলা বাকবিশিস সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার বর্মণ, আদিবাসী নেতা রাফাইল হাসদা, কলেজ শিক্ষক নীহার রঞ্জন রায় সুজন,মানবাধিকার অঞ্জলী রানী, এ্যাডভোকেট শাহনেওয়াজ, জেলা ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি তপন দেবনাথ,সাধারণ সম্পাদক আসমানী আকতার আশা,সদস্য রানু সরকার প্রমূখ।

গণআবস্থান কর্মসূচিতে গণসংগীত ও কবিতা আবৃতি করেন জেলা উদীচীর সহসাধারণ সম্পাদক চুনি ইসলাম, শিরিণ আকতার,জিয়াউর রহমান জিয়া, যন্ত্রে সহযোগিতা করেন মাহমুদ সাগর মহব্বত। এছাড়া আদিবাসীরা তাদের দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন।

সমাবেশে বক্তারা, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর আদিবাসী পল্লীতে মিল কর্তৃপক্ষের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের হামলা ও পুলিশের গুলিতে নিহত তিন সাঁওতাল শ্যামল হেমরম,মঙ্গল মার্ডি ও রমেশ টুডু, আহত হন অসংখ্য সাঁওতাল, অগ্নিসংযোগ,নির্যাতনর ঘটনা ঘটানো হয়। ঘটনার পর আদিবাসী সাঁওতালরা হত্যা মামলা দায়ের করলেও ঘটনার ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও এজাহারভূক্ত আসামী স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ আবুল কালাম আজাদ,সাপমার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুলসহ উল্লেখযোগ্য কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। বক্তারা অবিলন্বে সাঁওতাল হত্যাকান্ড মামলার আসামীদের গ্রেফতারে জোর দাবি জানান। বক্তারা আরও বলেন, সাঁওতাল ও বাঙ্গালিদের বাপদাদার সম্পত্তি ফেরতের ব্যাপারে সরকার নির্বিকার। সরকার দ্রুত এব্যাপরে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামিতে বৃহত্তর আন্দোলনে গড়ে তোলা হবে।

সাঁওতাল নেতা ফিলিমন বাসকে বলেন, অবিলন্বে পৈত্তিক সম্পত্তি ফেরত ও সাঁওতাল হত্যাকান্ডের আসামীদের গ্রেফতার করা না হলে আজ দুই বিভাগের জেলা শহরের সমাবেশ করা হচ্ছে,আগামি ৩০জুন সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবসে দেশব্যাপী বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করে সরকারকে দাবি আদায়ে বাধ্য করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য