সদ্য প্রকাশিত এক বইয়ে পাকিস্তানের আঠারশোরও বেশি ধর্মীয় নেতা আত্মঘাতী বোমা হামলাকে ‘অনৈসলামিক’ অ্যাখ্যা দিয়ে ফতোয়া জারি করেছেন।

মঙ্গলবার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত বইটির মোড়ক উন্মোচিত হবে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

পাকিস্তান বছরের পর বছর ধরে ইসলামি জঙ্গিদের লাগাতার সহিংসতার শিকার। দেশটিতে ইসলামি শাসন কায়েম করতে চাওয়া এ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো তাদের তৎপরতা ও ধারাবাহিক আত্মঘাতী বোমা হামলাকে ‘জিহাদ’ বা ‘ধর্মযুদ্ধ’ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করে আসছে।

বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের মৃত্যুর কারণে আত্মঘাতী হামলাগুলোকে ধারাবাহিকভাবে ‘ধর্মান্ধ’ কিংবা ‘অনৈতিক’ হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গিদের কাছে এটি রাজনৈতিক তৎপরতার শক্তিশালী ‘অস্ত্র’ হিসেবেই পরিচিত।

চলতি শতকের শুরু থেকে পাকিস্তানে লাখ লাখ মানুষ হতাহতের জন্য দায়ী‘সন্ত্রাসবাদ’ কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই ধর্মীয় নেতারা এবার আত্মঘাতী বোমা হামলাকে নিষিদ্ধ বা ‘হারাম’ অভিধা দিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

“আধুনিক ইসলামি সমাজের স্থিতিশীলতার জন্য এই ফতোয়া একটি শক্তিশালী ভিত্তি দেবে,” বইটিতে বলেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনুন হোসেন।

বইয়ের ফতোয়া থেকে নেওয়া নির্দেশনা রাষ্ট্রজুড়ে উগ্রবাদ কমিয়ে ইসলামের ‘স্বর্ণালী মূলনীতি’ অক্ষুণ্ন রাখতে ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ তার।

সমালোচকরা পাকিস্তানের সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোকে রাজনৈতিক ও সামরিক কারণে মদদ দেওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। মসজিদগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় বয়ানের নামে যে ঘৃণার চর্চা চলে আসছে সেদিকে সরকার ও সেনাবাহিনী চোখ বুজে ছিল বলেও ভাষ্য তাদের।

চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হাক্কানি নেটওয়ার্ক ও আফগান তালেবানকে সহযোগিতা করার অভিযোগ এনেছে; জঙ্গি এ গোষ্ঠীদুটি আফগানিস্তান ও ভারতে বেশ সক্রিয়।

ইসলামাবদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, গত দশকে পাকিস্তানি তালেবানের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি নির্মূলের ক্ষেত্রে বিরাট অগ্রগতি হয়েছে।

প্রভাবশালী উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাবধান হতে হবে এবং এক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলেও অনানুষ্ঠিক সতর্কতায় জানিয়েছে তারা।

পাকিস্তানের ধর্মীয় নেতারা বলছেন, “কোনো ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর জিহাদ ডাকা কিংবা তা পরিচালনার এখতিয়ার নেই।”

আত্মঘাতী বোমা হামলা ইসলামের মূল শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সে কারণে এটি নিষিদ্ধ বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের ধর্মীয় নেতারাও ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীর ডাকা জিহাদ ও আত্মঘাতী হামলার বিরুদ্ধে এ ধরণের ফতোয়া দিয়েছিলেন।

এক হাজার আটশ‘রও বেশি ধর্মীয় নেতার লেখা বইটি প্রস্তুত করেছে পাকিস্তানের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি। প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসাইন মঙ্গলবার ইসলামাবাদে এক অনুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য