দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলায় চলতি আলু মৌসুমের শুরুতেই আলুতে পচন রোগ দেখা দিয়েছে। শীত, কুয়াশা, প্রচন্ড ঠান্ডা সহ বৈরী আবহাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে প্রায় কৃষকেরা এক দিন পর পর আলূ ক্ষেতে ওষুধ প্রয়োগ করে আলু পরিচর্যায় ব্যাস্ত সময় কাটাছেন। শীর্তের কারণে আলু ক্ষেত নাবিধসা বা ‘লেটব্লাইট’ রোগ দেখা দিয়েছে। কয়েক চাষী বলছেন, ওষুধ দিয়েও এ রোগ ঠেকানো যাচ্ছে না।

কাহারোল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ২ হাজার ২শত ১০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে ঘন কুয়াশার কারণে কোন কোন এলাকায় আলূ গাছে লেটব্লাইট রোগ দেখা দিয়েছে।

এই রোগ সংক্রামক। কোন ক্ষেতে একটি গাছে এ রোগ দেখা দিলে সংঙ্গে সংঙ্গে চাষীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে পুরো ক্ষেত আক্রান্ত হওয়ার আশংক্ষা থেকে যায়। গতকাল সোমবার উপজেলার ইটুয়া, নয়াবাদ, ঈশানপুর, মিত্রবাটি গ্রামের অন্তত ২০জন কৃষকের সংঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ মাসের শুরু থেকে এলাকায় ঘন কুয়াশা ও তীর্ব্র শীত। এ কুয়াশার জন্য আলু গাছে লেটব্লাইট রোগ দেখা দিচ্ছে। দুপুরের দিকে সামান্য সময়ের জন্য রোদের তেজ থাকছে যা গাছের জন্য ক্ষতিকর।

কৃষকেরা আরো বলেন, আলু গাছের পাতার কোনের দিকে পানিতে ভেজার মত কালো রংঙ্গের দাগ দেখা যাচ্ছে। এরপর গোটা গাছে একই রকমের দাগ ছুড়িয়ে পড়ছে। দূর থেকে মনে হচ্ছে গাছে কালী ছিটানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে গাছের কান্ড ও পাতা পচে যাচ্ছে।

ভরের দিকে আক্রান্ত পাতার নীচে সাদা পাউডারের মতো জীবানু চোখে পড়ছে। ফলে বেড়ে উঠা আলূ গাছ গুলো কুকড়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় চাষীরা বিভিন্ন ওষুধ ছিটানো শুরু করেছেন। কিন্তুু সুফল পাচ্ছেনা চাষীরা।

নয়াবাদ গ্রামের চার্ষী শাহাজান এবার ১বিঘা জমিতে আলূ চাষ করেছেন গোটা ক্ষেতই লেটব্লাইট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ইটুয়ার চাষী সাইফুল বলেন ওষুধ ছিটিও কোন ফল পাচ্ছেনা। কাহারোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অরুন চন্দ্র রায় বলেন, চাষীদের সর্তক থাকতে বলা হয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিরোধ হিসেবে অনুমোদিত ছত্রা নাশক প্রয়োগ করতে হবে।

উপজেলায় গত ১সপ্তাহের বেশী সময় ধরে বিভিন্ন গ্রামে ডায়মন্ড ও ষ্টিকি জাতের আলু ক্ষেত্রে লেটব্লাইট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে রোগের ক্ষেত্রে ছত্রাক ও বালাই নাশক ওষুধ প্রয়োগ করায় চাষীদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া শীত, কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে লেটব্লাইট রোগ মোড়ক আকারে দেখা দিতে পারে বলে আশংক্ষা করছেন চাষীরা।

কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষি বিদ মোঃ শামীম বলেন লেটব্লাইট রোগ প্রতিরোধ করতে আলুক্ষেত্রে মেনকোজেব ও মেটালেক্সিল গ্রুপের ছত্রাক নাশক দিতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য