শরণার্থীদের দেখে আতঙ্কিত না হয়ে তাদের প্রতি অতিথিপরায়ণ হতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভ্যাটিকান পোপ ফ্রান্সিস। রবিবার (১৪ জানুয়ারি) বিশ্ব অভিবাসী ও শরণার্থী দিবস উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে এই আহ্বান জানান তিনি।

পোপ ফ্রান্সিস নিজেই অভিবাসীর সন্তান। তার বাবা-মা আর্জেন্টিনা থেকে ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ক্যাথলিক চার্চের পোপ হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের পর শরণার্থীদের সুরক্ষার প্রশ্নে বার বারই সোচ্চার হতে দেখা গেছে ফ্রান্সিসকে। ২০১৩ সালে তিনি পোপ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকটি শরণার্থী ও অভিবাসী সংকটের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ব।

এরমধ্যে রয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে অভিবাসীদের ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টা এবং মিয়ানমারে নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাড়ি জমানো। বিশ্ব অভিবাসী ও শরণার্থী দিবস উপলক্ষে রবিবার সেন্ট পিটারের বাসিলিসাতে এক সমাবেশ করেন পোপ। সেখানে ৫০টি দেশের লাখো অভিবাসী, শরণার্থী ও অভিবাসন প্রত্যাশীদের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

সমাবেশে পোপ বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন মাঝে মাঝে নতুন করে আগতদেরকে নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাদের মনে আশঙ্কা তৈরি হয়, নবাগতরা বিদ্যমান শৃঙ্খলাকে ক্ষুণ্ন করবে, কঠিন শ্রম দিয়ে নির্মিত কিছু চুরি করে ফেলতে পারে।’

পোপ মনে করেন এই ধরনের আশঙ্কা করা পাপ নয়। তবে এই ধরনের আশঙ্কা করে নিজেদের দায়িত্ব সীমিত করে ফেলা, বৈরিতা ও প্রত্যাখ্যানকে প্রশ্রয় দেওয়া এবং সম্মান ও উদারতার প্রশ্নে আপোষ করাটা পাপের বলে মনে করেন তিনি। ফ্রান্সিস বলেন, ‘আমরা প্রায়ই অন্যের মুখোমুখি হতে ভয় পাই এবং নিজেদের জন্য সুরক্ষা দেয়াল গড়ে তুলি।’

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সোমবার দক্ষিণ আমেরিকায় ৮ দিনের সফর শুরু করবেন ফ্রান্সিস।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য