ইসরায়েলি সেনাকে থাপ্পড় মেরে ফিলিস্তিনি জাতি মুক্তি আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠা শিশু আহেদ তামিমির গ্রামকে সংরক্ষিত সামরিক এলাকায় ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। শনিবার পশ্চিম তীরের নবী সালেহ গ্রামে সব ধরণের প্রবেশ এবং বের হওয়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দখলদার ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর এই খবর দিয়েছে।

দখলদার ইসরায়েলি সেনাকে থাপ্পড় ও লাথি মারার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসে ১৬ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু আহেদ তামিমি। এমন দুঃসাহসিকতা দেখানোয় মা-সহ তাকে গ্রেফতার করে ইসরায়েলি সেনারা।

এরইমধ্যে দুই দফায় রিমান্ডে নিয়ে তার বিরুদ্ধে ১২ টি অভিযোগ এনেছে ইসরায়েল। তামিমির মুক্তির দাবি ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। ১৬ বছরের ওই শিশু হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিনি জনগণের মুক্তি আন্দোলন ও তৃতীয় ইন্তিফাদার প্রতীকী চরিত্র।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন বার্তা সংস্থা ওয়াফা নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা নবী সালেহ গ্রামে প্রবেশের প্রধান সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করেছে।ফিলিস্তিনি নাগরিক ছাড়াও সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে তারা।

ওয়াফার খবরে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের তামিমির মুক্তি দাবির বিক্ষোভে যোগ দেওয়া আটকাতে ইসরায়েল এই ব্যারিকেড দিয়েছে বলা হলেও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী মিডল ইস্ট মনিটরকে বলেছেন, এটা নবী সালেহর বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমুলক পদক্ষেপ, বিশেষত তামিমির পরিবারের বিরুদ্ধে।

১৬ বছরের আহেদ তামিমির চাচা বিলাল আল তামিমিকে উদ্ধৃত করে ওয়াফা জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা গ্রামটির বাসিন্দা নন এমন কাউকেই সেখানে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। তবে বার্তা সংস্থাটির খবরে বলা হয়েছে, সেনাদের বাধা উপেক্ষা করে অনেকটা পথ ঘুরে গিয়েও অনেক ফিলিস্তিনি নাগরিক নবী সালেহ গ্রামে আহেদ তামিমির মুক্তির দাবির আন্দোলনে শামিল হয়েছেন।

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতির মার্কিন ঘোষণা বাতিল আর তামিমির মুক্তির দাবিতে আয়োজিত ওই বিক্ষোভে ইসরায়েলি সেনারা টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

ইসরায়েলের হাশারোন কারাগারে আটক থাকা তামিমির মুক্তির দাবিতে শনিবারও দখলকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শত শত ফিলিস্তিনি জড়ো হন। তারা জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বীকৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি আহেদ ও তার মায়ের মুক্তি দাবি করেন।

আহেদ তামিমিকে আটকের পর তার চাচাতো বোন নুরকেও আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। পরে অবশ্য তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এখনও ইসরায়েলের হাতে আটক রয়েছেন তামিমির মা নরিমন ও চাচি। পরে এক রাতে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় তার আরও এক চাচাতো ভাইকে। এক সপ্তাহ আগে দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই মুসাব আল তামিমিকে নবি সালেহর পাশের গ্রাম ডেইর নিথামে গুলি চালিয়ে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখায় তামিমির পরিবারের আন্তর্জাতিক পরিচিতি রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য