আমাদের গ্রীষ্মপ্রধান দেশে শীতকাল পরম আরাধ্য ঋতু। তবে শীতের মজার সঙ্গে সাজাও আছে। যেমন- শুষ্ক ত্বক, ঠোঁট ও পা ফাটা, সর্দি-কাশি ইত্যাদি। লোশন, পেট্রোলিয়াম জেলি, গ্লিসারিন ইত্যাদির মাধ্যমে ত্বকের যত্ন, আর হাল ফ্যাশনের বিভিন্ন শীতবস্ত্র পরে ঠান্ডার প্রকোপ থেকে বাঁচা গেলেও অবহেলিত থেকে যায় নখ।

রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে তথ্য নিয়ে শীতকালে নখের যতœ নেওয়ার কিছু পরামর্শ এখানে দেওয়া হল।

আদর্শ প্রসাধনী
হাতের জন্য ক্রিম বা লোশন কেনার সময় তাতে ‘আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড, ‘ল্যানোনিন’ কিংবা ইউরিয়া আছে কি না দেখে নিতে হবে। এর সবগুলোই ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক। তবে নখের জন্য উপকারী লোশন বা ক্রিম চাইলে এগুলোর সঙ্গে ‘গ্লিসারিন’, ‘টাইরোসিন’, ‘লিপিডেস’ ‘অ্যামিনো অ্যাসিড’ এবং ভিটামিন থাকতে হবে। এই উপাদানগুলো নখের শুষ্কতা দূর করতে এবং স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

সাধারণ শীতের ক্রিম নখে মালিশ করলেও উপকার মিলবে। আর নেইল পলিশ দেওয়া থাকলে ‘কিউটিকল’ বা নখেল দুই পাশের কোণায় ক্রিম মাখালে নখ ভালো থাকবে।

হাত ধোয়া
সারাদিনে বিভিন্ন কারণে অনেকবার হাত ধোয়া হয়। শীতের দিনে বারবার হাত ধোয়ার কারণে নখ প্রাকৃতিক আর্দ্রতা হারায়, হয়ে যায় ভঙ্গুর। তাই ঘরের কাজ করার সময় হাতমোজা পরে নিতে পারেন, যাতে নখ না ভেজে।

রাতে ঘুমানোর সময় হাতে উলের হাতমোজা পরে নিতে পারেন। এতে নখ ও হাতে আর্দ্রতা বজায় থাকবে। হাতমোজা না থাকলে হাত ধুয়ে, মুছে ভেজা নখে যে কোনো গায়েমাখা তেল হাতে মাখতে পারেন।

কুসুম গরম পানি
নখের যতœ নেওয়ার একটি অনন্য উপায় হল সপ্তাহে একদিন কুসুম গরম পানিতে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট নখ ডুবিয়ে রাখা এবং পরে ‘কিউটিকল অয়েল’ মাখানো। ভালো উপকার পেতে তেল মাখানোর পর কমপক্ষে এক ঘণ্টা সুতি হাতমোজা পরে থাকতে পারেন। গোসলের পর হাতে ও নখে এই তেল সামান্য পরিমাণে মেখে নিতে পারেন এবং গোসলের সময় আলতেভাবে তেলটি মালিশ করতে পারেন।

নেইল পলিশ ও রিমুভার
একটানা দীর্ঘদিন নেইল পলিশ মাখলে এতে থাকা রাসায়নিক উপাদান নখের ক্ষতি করতে পারে। তাই মাঝেমধ্যে নেইল পলিশ ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে।

নেইল পলিশ রিমুভার কেনার সময় ‘অ্যাসিটোন’ নামক উপাদান নেই এমনটা দেখে কিনতে হবে। এই উপাদান নখ শুষ্ক ও ভঙ্গুর করে। এমনটা যদি হয়েই যায় তবে কমপক্ষে এক সপ্তাহ ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে।

নখ কাটা
নখ সবসময় যথাসম্ভব ছোট রাখা উচিত। কারণ বড় নখ ভাঙার সম্ভাবনা বেশি। নখ সবসময় একদিক থেকে কাঁটা উচিত, এতে নখ ভাঙার আশঙ্কা কমে। হাত ধোয়া কিংবা গোসলের ঠিক পরপরই নখ ‘ফাইল’ করা উচিত নয়। কারণ, এ সময় নখ নরম থাকে, তাই ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও বেশি থাকে।

খাদ্যাভ্যাস
আপনার খাদ্যাভ্যাস নখের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। তাই পর্যপ্ত আমিষ, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন নিশ্চিত করতে হবে। নাহলে নখ হবে শুষ্ক ও ভঙ্গুর। নখের আর্দ্রতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য