আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গত দু’সপ্তাহ ধরে গাইবান্ধায় শৈত্যপ্রবাহ ও উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে দরিদ্র মানুষেরা অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সেইসাথে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মত ঘন কুয়াশা পড়ছে। ফলে শস্যে ক্ষেতের শস্য ফুল ঝড়ে পড়ছে এবং শীতকালিন নানা সবজিগুলোতে ছত্রাক রোগের প্রকোপ বেড়েছে।

এছাড়া প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে বেশী। ফলে বৃদ্ধ ও শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। ঘন কুয়াশার কারণে সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত হেড লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে। বেলা ১টার পর সুর্যের দেখা মিললেও ঠান্ডা কমে না। এতে করে জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। এদিকে প্রচন্ড শীতের কারণে শহরের পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে।

এব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, প্রায় দু’সপ্তাহ শৈত্য প্রবাহ অব্যাহত থাকায় শীতকালীন নানা সবজি, বোরো বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ফলে আসন্ন ইরি-বোরো চাষ পিছিয়ে ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।

সুন্দরগঞ্জঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রচন্ড শীতে জন-জীবনে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। আশঙ্কাতীত হারে নেমে এসেছে আর্ত মানবতা।

জানা যায়, চলতি এ শীতকালে উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও পৌর সভায় গত ১২ দিন ধরে বইছে হিমেল হাওয়া, ঘন কুয়াশায় বাড়ছে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। সর্বত্রই নেমে এসেছে নিম্ন তাপমাত্রা। বলাই বাহুল্য শিশু, বয়োবৃদ্ধ, গৃহ-পালিত পশু-পাখি, শ্রম ও পেশাজীবিদের দুরাবস্থা।

শীতজনিত কারণে কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি-জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ নানান রোগে আক্রান্ত রোগীরদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে প্রাথমিক চিকিৎসার ভীর জমেছে।

ঠান্ডায় আক্রান্ত হয়ে বেলকা ইউনিয়নের বেলকা গ্রামের ফরিদুল ইসলামের মেয়ে মজিদপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী তানজিনা আক্তার তৃষা, ছাপড়হাটী ইউনিয়নের উত্তর মরুয়াদহ গ্রামের আব্দুর রহমান (৭০) ও একই গ্রামের বঙ্কিম চন্দ্র (৬০) নামে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ডাক্তার না থাকায় বরাবরই বন্ধ রয়েছে ১০ শয্যা বিশিষ্ট ছাপড়হাটী ইউনিয়ন (শোভাগঞ্জ) উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ঘন কুয়াশার ফলে দিনে লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও সন্ধ্যার পূর্বেই তা বন্ধ হয়ে যায়।

সন্ধ্যার পর পরই হাট-বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতা শূন্য হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। কোন কোন হাট-বাজারের দোকানদাররা বেচা-কেনার আশায় সন্ধ্যা পেরুনোর চেষ্টা করেন দোকানের বাইরে বা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে তাপ গ্রহণের সাহায্য নিয়ে।

শীতের তীব্রতায় বোরো ধানের চারা, শাক-সব্জিসহ রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় ভুগছেন চাষীরা। উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস জানিয়েছে, পৌরসভাসহ ১৫ ইউনিয়নে সব বয়সের প্রায় পৌণে ৬ লাখ জনগোষ্ঠী রয়েছে। এরমধ্যে নদী মাতৃক ৬ ইউনিয়নসহ পুরো জনগোষ্ঠির প্রায় ৬৫ শতাংশই নিম্ন মধ্যবৃত্ত, দরিদ্র ও অতি-দরিদ্র সীমার নীচে বসবাস।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা- নুরুন্নবী সরকার জানান, চলতি শীত সৌসূমে এ পর্যন্ত ৯ হাজার ৮শ’ কম্বল বরাদ্দ এসেছে। তা যথারীতি শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আরো কমপক্ষে ১০ হাজার কম্বল বরাদ্দ চেয়ে উর্ধ্বোতন দপ্তরে চাহিদা প্রেরণ করা হয়েছে।

বরাদ্দ পেলেই দ্রুত ও যথাযথভাবেই শীতার্ত মানুষদের মাঝে পৌঁছে দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জানান, তাঁর দপ্তরের পক্ষে যথাসাধ্য জন কল্যাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য