চিরিরবন্দরে মহাসড়ক ও সড়কের পাশের গাছে গাছে পেরেক ঠুকে লাগানো হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পণ্যের বিজ্ঞাপন। এতে গাছগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মরে যাচ্ছে অনেক গাছ। হারিয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিক সৌন্দর্য্যও।

সম্প্রতি উপজেলার রাণীরবন্দর, আলোকডিহি, বেকিপুল, ভূষিরবন্দর, বিন্যাকুড়ি, ঘন্টাঘর, অকড়াবাড়ি, বাংলাবাজার, আখতারের বাজার, ঘুঘুরাতলী, বেলতলী, কারেন্টহাট, আমতলীবাজারসহ বিভিন্ন সড়ক সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের পাশের গাছে গাছে ঝুঁলছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রচারণার অসংখ্য ফেস্টুন। এসব ফেস্টুনের অধিকাংশই পেরেক দিয়ে গাছে আটকানো হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন কোচিং সেন্টার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, হারবাল ওষুধ কোম্পানী ও রাজনৈতিকের ফেস্টুন। পিছিয়ে নেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কোচিং সেন্টারগুলোর বিজ্ঞাপনও।

তেঁতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা প্রণয় কুমার রায় ও নশরতপুর গ্রামের বাসিন্দা ওবায়দুর রহমান, ছাবেরউদ্দিন বলেন, ‘সড়কের পাশের অধিকাংশ গাছে বেশ ক’টি করে পেরেক মেরে বোর্ড টাঙানো হয়েছে। গাছে নির্বিচারে পেরেক লাগানোর কারণে সড়কের অনেক গাছ মরে গেছে। গাছে পেরেক মারা বন্ধ না হলে গাছগুলো মরে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

সম্প্রতি রাণীরবন্দরের সুইহারিবাজারের অদূরে একটি গাছে কোচিং সেন্টারের প্রচারণা বিজ্ঞাপন টাঙাচ্ছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু’যুবক। তাদের একজন বলেন, ‘কোচিং সেন্টারের লোকজন এমন স্থানে লাগাতে বলেছেন, যেখানে মানুষের সহজে দৃষ্টিগোচর হয়। এজন্য গাছেই ফেস্টুন লাগাচ্ছি।’ গাছে এভাবে পেরেক লাগানো উচিত কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সে বলেন, ‘মনে হয় লাগানো ঠিক না। সবাই লাগিয়েছে দেখে আমরাও লাগিয়েছি।’

শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাণিকুলের বেঁচে থাকার জন্য প্রধান উপাদান হচ্ছে গাছ। এই গাছের প্রাণ আছে। অনুভূতি শক্তি আছে। কেবল গাছের বাকশক্তি নেই। এভাবে ক্ষত-বিক্ষত হওয়ার কারণে সেই স্থান গাছের রস, আঠা বা আঠা জাতীয় পদার্থ নি:সরণ করে। গাছ সবকিছু বিলিয়ে দিয়ে আমাদের জীবন বাঁচিয়ে রাখছে। উপকারের প্রতিদান স্বরুপ গাছে পেরেক মেরে মানুষ তার প্রতিদান দিচ্ছে। আমাদের বিবেককে জাগ্রত করা প্রয়োজন।’

ইছামতি ডিগ্রি কলেজের জীববিদ্যা অনুসদের প্রভাষক মো. আতাউর রহমান বলেন, গাছের প্রাণ আছে। একেকটি গাছ যেন একেকটি অক্সিজেনের ফ্যাক্টরি। অক্সিজেন ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। পেরেক লাগানোর কারণে গাছের গায়ে ছিদ্র হয়, তা দিয়ে পানি ও এর সাথে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অণুজীব প্রবেশ করে। যার দরুণ গাছের ওই স্থানে পঁচন ধরে। ফলে গাছের খাদ্য ও পানি শোষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এক সময় গাছটি মারা যেতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহমুদুল হাসান জানান, গাছে পেরেক ঠুকে কোন প্ল্যাকার্ড, প্রচারপত্র লাগানো যাবে না। গাছে পেরেক মারলে গাছের জীবনীশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। মাটি থেকে গাছ পানি শোষণ করে। গাছ সেই পানি ছাল দিয়ে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে। পেরেক মারলে গাছের ওই অংশ পঁচে গিয়ে গাছ মরে যেতে পারে। মানুষের শরীরে পেরেক ঠুকলে যেমন লাগে, গাছেরও তেমন লাগে। গাছে পেরেক মেরে বিজ্ঞাপন টাঙানো বন্ধ করতে পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিজ্ঞমহল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য