ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বহুমুখী পল্লী উন্নায়ন সংস্থা নামে, এক হায় হায় এনজি’র নামে সরকারের অর্ধ কোটি টাকা গ্রহন করলেও, সেই এনজিও’র কোন কার্য্যক্রম নাই।

সমাজ সেবা অধিদপ্তর বলছেন বহুমুখী পল্লী উন্নায়ন সংস্থা নামে, দরিদ্র জনগোষ্ঠির আর্থিক উন্নায়ন করার সর্থে সরকারের নিকট বিভিন্ন সংস্থা অর্ধ কোটি টাকা ঋন ও অনুদান গ্রহন করেছে। অথচ সেই বহুমুখী পল্লী উন্নায়ন সংস্থার কোন কার্য্যক্রম এখন নাই।

উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান বলেন,বহুমুখী পল্লী উন্নায়ন সংস্থা, রাজারামপুর, ফুলবাড়ী দিনাজপুর, তিনি নিজে সরজমিনে তদন্ত করতে গিয়ে দেখেন, বহুমুখী পল্লী উন্নায়ন সংস্থার, রাজারামপুর অফিস কার্য্যলযের বাড়ীটিতে এখন বসবাস করেন, সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম।

এছাড়া গত ২০০৬ সালে ৩ বছরের জন্য নির্বাহী কমিটি অনুমোদন হলেও সেই কমিটির ম্যায়াদ ২০০৯ সালের ২৫ জুলাই শেষ হয়ে গেছে, এর পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন কমিটি নাই। সংস্থাটির ঋন বিতারনের ফাইলটি দেখতে চাইলে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম কোন রেজিষ্টার দেখাতে পারেনি।

এদিকে খোজ নিয়ে জানা যায়, সংস্থার নামে রাখা ফুলবাড়ী পৌর এলাকার গৌরীপাড়া মৌজার ১২০/৪৫৭ নং দাগের লিজ নেয়া ৪ শতক জমির উপর দ্বিতল বাড়ীটি গত ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর জয় চৌধুরী নামে এক জনের নিকট বিক্রি করেছে।

উপজেলা ভুমি অফিস সুত্রে জানা গেছে ১৯৯২ সালে এই জায়গাটি রফিকুল ইসলাম নিজেকে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে এই জায়গা লিজ গ্রহন করেছিল, অথচ রফিকুল ইসলাম একজন সাবেক বিডিআর সদস্য। তার পরিচয় গোপন করে জায়গা লিজ গ্রহন করায়, গত ২০১০ সালের ২৭ আগষ্ঠ তার লিজটি বাতী করে দেয় উপজেলা ভুমি অফিস।

অথচ এই জায়গার উপর নির্মিত দ্বিতল বাড়ীটি বন্ধক রেখে সংস্তার নামে অর্ধকোটি টাকা ঋন গ্রহন করেন সংস্থার নিবাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম। সুধু তাই নয় রিজ বাতীল হওয়ার পরেও এই বাড়ীটি জয় চৌধুরীর নিকট ১৪ লাখ টাকায় বিক্রি করে।

এলাকাবীদের নিকট জানা যায়, সাবেক এই বিডিআর সদস্য রফিকুল ইসলাম, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লিজ পাওয়া জায়গার উপর, একটি দ্বিতল বাড়ী নির্মান করে, সেখানে এসআর আবাসীক হোটেল ব্যবসা চালু করেন, আবাসীক হোটেল ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কার্য্যক্রমের অভিযোগ উঠলে, এক সময় এলাকাবাসীর চাপে সেই হোটেলটি বন্ধ হয়ে যায়। এর পর সেখানে বহুমুখী পল্লী উন্নায়ন নামে একটি এনজিও’র অফিস করেন। সেই এনজিও’র নামে সেখানে ফুলবাড়ী হেলথ কেয়ার নামে একটি ক্লিনিক খোলেন, এই ক্লিনিকটিকে একটি স্বাস্থ্য সেবা মুলক প্রতিষ্ঠান দেখিযে, সরকারের নিকট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা গ্রহন করেন।

অপরদিকে ব্যাংকে বন্ধক রাখা জমি প্রতারনার মাধ্যমে বিক্রি করায় বিপাকে পড়েছে জমির ক্রেতা। ১৪ লাখ টাকা দিয়ে জমি কিনে ৫০ লাখ টাকার দেনা এখন জমির গ্রাহকের মাথায়।

জমির ক্রেতা ডাঃ জয় চৌধুরী যায়যায়দিনকে বলেন, বর্তমানে রাজারামপুর বিজিবি ক্যাম্প পাড়ায় বসবাসরত মোঃ রফিকুল ইসলাম গত ইং ০২-১০-২০১৬ তারিখে তার নিকট ১৪ লাখ টাকায় পশ্চিম গৌরীপাড়া মৌজার ..জমি ও জমির উপর নির্মিত বাড়ী বিক্রি করে। তিনি ওই বাড়ী কিনে ডক্টরর্স পয়েন্ট নামে একটি ডায়গসষ্টিক সেন্টার চালু করেন।

এখন বাংলাদেশ ব্যাংক ও সমাজ কল্যান থেকে চিটি আসচ্ছে, ওই বাড়ীটি বন্ধক রেখে বাড়ীর পুর্বের মালিক রফিকুল ইসলাম প্রায় ৫০ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক ও সমাজ কল্যান থেকে গ্রহন করেছে। ওই টাকা পরিশোধ না করা হলে তাকে ব্যাংকের নিকট বাড়ীর দখল ছাড়তে হবে। এই কারনে বাড়ীটির পুর্বের মালিক রফিকুল ইসলামকে ব্যাংক ও সমাজ কল্যানের ঋণ পরিশোধ করার কথা বললে, রফিকুল ইসলাম তাকে না না বিষয়ে হুমকি দিচ্ছে।

এদিকে রফিকুল ইসলাম নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিলেও, ফুলবাড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর কমান্ডার লিয়াকত আলী ও রফিকুল ইসলাম এর জন্মস্থান ঝিনাইদা জেলায মুক্তিযোদ্ধা সংসদে যোগাযোগ করা হলে মুক্তি যোদ্ধা তালিকায রফিকুল ইসলাম নাম পাওয়া যায়নি।

অথচ রফিকুল ইসলাম নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সমাজে ও রাষ্ট্রের নানা সুবিদা গ্রহনকরে যাচ্ছে। সুধু তাই নয়, বেকার ছেলে-মেয়েদেরকে চাকুরী দেয়ার নাম করে টাকা আত্মসার্থের অভিযোগ উঠেছে তার নামে। এই জন্য তার বিরুদ্ধে আনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রসাশনের বিভিন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন, তার প্রতারনার শিকার ডাঃ জয় চৌধুরী।

এই বিষয়ে রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বাড়ী বিক্রয়ের ও বন্ধক রাখার কথা অস্বীকার প্রশ্ন করেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা না হলে সরকার কি দেখে জায়গা দিলো।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য