রংপুর শীতের তাব থেকে রক্ষা পেতে আগুন পোহাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৫ মহিলা। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করছে প্রায় অর্ধশত নারী শিশু। রমেক হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গত ৬ থেকে ১১ জানুয়ারী বুধবার পর্যন্ত শৈত্য প্রবাহের সময় আগুন পোহাতে গিয়ে এইসব ঘটনা ঘটে।

রমেক হাসপাতালের বার্ণ ইউনিট সূত্রে জানাগেছে, বেশকদিন থেকে রংপুর অঞ্চলে শৈত্য প্রবাহে জন জীবনে নেমে এসেছে দুর্বিসহ অবস্থা। শীতের হাত থেকে রক্ষ পেতে গ্রামগঞ্জের সর্বত্রই আগুনের উত্তাপ নেয়ার চেষ্টা করেছে অনেকে। কেউ পোয়াল কেউ খড়কুটা জে¦লে আগুন তাপিয়ে ঠান্ডা মোকাবেলার চেষ্টা করেছে।

ফলে অনেকেই আগুন পোহাতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়েছে। গত ৫ দিনে আগুন পোহাতে গিয়ে দ্বগ্ধ হয়ে রমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে মারা গেছেন ৫ জন। ২৬ সিটের বার্ণ ওয়ার্ডে বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৪৬ জন অগ্নিদগ্ধ রোগী। আগুনে যারা মারা গেছেন তারা হলেন মনি বেগম (৭৫), খোরশেদ (৩) ফাইজন নেছা (৯৯) শাম্মি আক্তার (১৩) ফাতেমা বেগম (৫০)।

এদের সকলের শরীরের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। বুধবার দুপুরে রমেক হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে গিয়ে দেখা গেছে চিকিৎসা নিচ্ছে লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার জহুরা বেগম (৪০) তার শরীরের ৩৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরি উপজেলার মজিরন নেছা(৫০)’র ১৬ শতাংশ, রংপুরের মিঠাপুকুরের মরিয়ম বেগম (৫২) এর ২০ শতাংশ,নুরুন নাহার বেগমের (৬০) এর ৪২ শতাংশ, আরিফা আক্তার (৩৫) এর ৬৮ শতাংশ, তমা (২০) এর ১৬ শতাংশ, শিশু তাসনিম (৫) ২০ শতাংশ, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের আসমা বেগমের ২৬ শতাংশ আগুন পোহাতে গিয়ে পুড়ে গেছে।

তার সকলেই যন্ত্রনায় ছটফট করছে। এদিকে বুধবার সকালে ভর্তি হয়েছে আরো কয়েকজন। এর মধ্যে রংপুরের পীরগঞ্জের আবদুর রউফের ৫ বছরের কন্যা রুমানার ২৩ শতাংশ, কাউনিয়া উপজেলার মোফজ্জাল হোসেনের স্ত্রী লাবনি বেগমের ৩০ শতাংশ, নীলফামারীর লক্ষিণ চন্দ্রের স্ত্রী রাধারানীর ২২ শতাংশ পুড়ে গেছে। এদের মত ৪৬ জন রোগী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

অগ্নিদ্বগ্ধদের অধিকাংশ নারী এবং শিশু। বার্ন ইউনিটে বেড সংকট দেখা দেয়ায় অনেক রোগীকে বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অগ্নিদগ্ধ তমা জানান, প্রচুর শীতের হাত থেকে বাচতে খড় দিয়ে আগুন তাপাতে গিয়ে তার শরীরে আগুন লেগে যায়। এতে তার পা ও শরীরের কিছু অংশ জ্বলে যায়।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম জানান, আগুন পোহাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে এত নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা আগে ঘটেনি। আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে তিনি জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য