আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল থেকেঃ উত্তরবঙ্গের ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈলে মাঘের শীতের তীব্রতা কিছুটা কম থাকলেও মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রচন্ডহারে শীত জেঁকে বসেছে। প্রচন্ড শীতের কারনে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বড় সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে ছিন্ন মুলের মানুষ ও শিশুরা।

তীব্র শীতের মধ্যেও অসংখ্য অসহায় পরিবারের লোকজন শীতের কাপড় ছাড়াই দিননিপাত করছে। অভাবের তাড়নায় “হে সূর্য শীতের সূর্য এক টুকু আলো দাও আমাদের কুড়ে ঘরে” অনেকের কাছে স্বপ্ন হয়ে রয়ে যাচ্ছে সারাদিন সুর্যের মুখ দেখতে না পেয়ে। এছাড়ারাও শীত জনিত রোগের তুলনা মূলক প্রকোপ বেড়ে গেছে ।

তাছাড়া ইরি মৌসুমের ধানের চারা শীতের প্রকোপে মরতে শুরু করেছে। এতে কৃষকের কপালে পড়ছে দুশ্চিন্তার ছাপ।

শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করার চেষ্টা করছে সাধারণ মানুষ। শীত বস্ত্রের দাম বাড়লেও ফুটপাতে ভিড় জমিয়েছে নি¤œ আয়ের মানুষেরা । শীতের প্রথম ধাপে বিভিন্ন সংগঠন, ব্যবসায়ী, দানশীল ব্যক্তি, এনজিও প্রতিষ্ঠান শীতবস্ত্র বিতরণ করলেও এখন ততোটা লক্ষ করা যাচ্ছেনা। তাছাড়া সরকারিভাবে যেসব কম্বল বিতরণ করা হয় তার সিংহভাগ চলে যায় রাজনৈতিক ব্যক্তি, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আমলাদের ডাইনে বাঁয়ে থাকা মানুষের হাতে বঞ্চিত হয় সাধারন মানুষ।

এ বিষয়ে রাণীশংকৈল ছাত্রদল সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক এম আর বকুল মজুমদার বলেন, ব্যক্তিগত ভাবে যতটুকু সম্ভব সাধারণ মানুষকে শীত বস্ত্র বিতরণ করেছি বর্তমানে ছিন্নমূল মানুষরা শীতের প্রকোপে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ঠান্ডায় জবুথবু মানুষের পাশে শীত বস্ত্র নিয়ে দাড়ানোর আহবান জানাচ্ছি সরকারকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেব জানান, হঠাৎ করে শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। এ অবস্থা আরো কিছুদিন বিরাজ করতে পারে। এ মাসের মধ্যে কয়েকটি শৈত্য প্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারিভাবে শীতার্থদের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল্লাহিল মাফি জানান, ঠান্ডাজনিত কারনে শিশুদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমেনিয়া, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথা, এ্যকোনিউমোনিয়া, ফ্যারেনজাইটিস, অ্যালার্জি ইত্যাদি রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া শীত জনিত রোগের সাথে ডায়রিয়ার প্রকোপ ও দেখা দিচ্ছে। ত্রান কর্মকর্তা বলেন, কিছু শীত বস্ত্র রয়েছে তা বিতরণ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার নাহিদ হাসান জানান, হঠাৎ শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। সরকারের বরাদ্ধকৃত শীতবস্ত্র ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। আরো কিছু চাহিদা পাঠানো হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব দরিদ্রদের মাঝে তা বিতরণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য