মিয়ানমারে আটককৃত রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট আইনে অভিযোগ এনেছে দেশটির সরকার। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১৪ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে তাদের। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার ইয়াঙ্গুনের একটি আদালতে এ অভিযোগ গঠন করা হয়। শুনানিতে অংশ নেন দুই সাংবাদিক।

১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন (৩১) ও কিয়াউ সয়ে ঊ (২৭)-কে আটক করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনের উপকণ্ঠে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নৈশভোজের পর তাদের আটক করা হয়।

তারা রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক চালানো নিধনযজ্ঞ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছিল। গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।

সেই বিষয়গুলো সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরতে চাইলে গ্রেফতার করা হয় দুই সাংবাদিককে। বুধবার শুনানিতে তারা বলেন, ‘তারা আমাদের গ্রেফতার করেছে কারণ আমরা তাদের হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আমরা সত্য প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি।’

ব্রিটিশ শাসনামালে ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ নামে ওই্ আনি তৈরি করা হয়। ১৯২৩ সালে সেসময় বার্মা নামে ভারতীয় প্রদেশ হিসেবে ছিল মিয়ানমার। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১৪ বছরের জেল হতে পারে সাংবাদিকদের।

এই আইনের আওতায় দুজন পুলিশ কর্মকর্তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল সরকার। তবে তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত আদালত মূলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে এর আগে দাবি করা হয়েছিল, রাখাইন প্রদেশে স্পর্শকাতর তথ্য নেওয়ার কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে ওই সাংবাদিকদের। তারা এই তথ্য বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের চেষ্টা করছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য