ওবামা প্রশাসনের ‘ড্রিমার প্রকল্প’ বাতিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে রুল জারি করেছে সান ফ্রান্সিসকোর আদালত। মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) বিচারপতি উইলিয়াম আলসুপ এই রুল জারি করেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

শৈশবে বাবা-মায়ের সঙ্গে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো অভিবাসীদের কাজের অনুমতি দিতে ‘ড্রিমার’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল ওবামা প্রশাসন। এর আওতায় কয়েক লাখ অবৈধ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো থেকে বিরত ছিল হোয়াইট হাউস। তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে মূলত তরুণ অনিবন্ধিত অভিবাসীদের সুরক্ষা দিতে চেয়েছিল ওবামা প্রশাসন।

এ কর্মসূচির দাফতরিক নাম ‘ডেফারড অ্যাকশন ফর চিলড্রেন অ্যারাইভাল’ (ডিএসিএ)। এ কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস,পড়াশোনা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পান প্রায় ৭ লাখ তরুণ। এই তরুণদের বলা হয় ‘ড্রিমার’। তবে গত সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটি সমাপ্তির ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য রুল জারি করেছে সান ফ্রান্সিসকোর আদালত।

মঙ্গলবার বিচারপতি উইলিয়াম আলসুপ বলেন, যেহেতু মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে সেক্ষেত্রে অবশ্যই এই কর্মসূচি বহাল রাখতে হবে। রুলে বলা হয়, যারা এই কর্মসূচির আওতায় আগে কখনও সুরক্ষা পাননি তাদের কাছ থেকে নতুন আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া চালানোর দরকার নেই।

তবে যারা আগে এই কর্মসূচির আওতায় সুরক্ষিত ছিলেন তাদের আবেদন নবায়নের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি উইলিয়াম। এই রুলের কারণে ট্রাম্প ও কংগ্রেসীয় নেতাদের মধ্যে অভিবাসন সংক্রান্ত সংস্কার নিয়ে আলোচনার বিষয়টি জটিল হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছে রয়টার্স।

ড্রিমারসদের বেশিরভাগই হিস্পানিক। তাদের বেশিরভাগই এসেছেন মেক্সিকো ও ল্যাটিন আমেরিকার অন্য দেশগুলো থেকে। ২ লাখেরও বেশি ড্রিমারস ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করছেন,১ লাখ বসবাস করছেন টেক্সাসে। নিউ ইয়র্ক, ইলিনয় এবং ফ্লোরিডায়ও বিপুল সংখ্যক ড্রিমারস এর বসবাস। নির্বাচনি প্রচারণার সময় ড্রিমারসদের বিতাড়িত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

তবে কংগ্রেসে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার পল রায়ান-সহ অনেক রাজনীতিক এ বিষয়ে ছাড় দিতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাদের বক্তব্য ছিল, ‘এই তরুণরা মা-বাবা তাদের এখানে নিয়ে এসেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য দেশ চেনে না। তাই তাদের সুযোগ দেওয়া উচিত।’ তবে সব আহ্বান উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত নিজের অভিবাসীবিদ্বেষী অবস্থানেই অনড় থাকেন ট্রাম্প।

কেবল সান ফ্রান্সিকোর আদালতই নয়, এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতের বিচারপতিদেরকে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে রুল জারি করতে দেখা গেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য