ফজিবর রহমান বাবু , বীরগঞ্জ থেকেঃ দিনাজপুরের বীরগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলন করে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পর এবার তার বিরুদ্ধে গোপন ব্যালটে ভোট দিলেন বীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র, দুই ভাইস চেয়ারম্যান ও ১১ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

৯ জানুয়ারী মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার সময় রংপুর বিভাগীয় সহকারী কমিশনার মিনু শীল এর উপস্থিতিতে বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদে উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে জন প্রতিনিধিরা এই ভোট প্রদান করেন।

সহকারী বিভাগীয় কমিশনার মিনু শীল জানান, অনিয়ম ও অনাস্থা এনে আবেদনকারীদের ১৪ জন উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভোট প্রদান করেছেন। ফলাফলটি রেজুলেশন আকারে নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর সাতটি সুনিদিষ্ট অভিযোগ এনে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১ জন ভাইস চেয়ারম্যান ও ১১ জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রংপুর বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে লিখিত অনাস্থা প্রস্তাব প্রেরন করেন।

এরপর ১৪ অক্টোবর দিনাজপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণ উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আসেন। এ নিয়ে গত ২০ ডিসেম্বর সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে তদন্ত ও সাক্ষ গ্রহন করেন সহকারী বিভাগীয় কমিশনার মিনু শীল। সেদিন চেয়ারম্যানগণ ও উপজেলা পরিষদের গাড়ী চালক সাক্ষি দেন।

¯^াক্ষ্য গ্রহণের পর সহকারী বিভাগীয় কমিশনার মিনু শীল উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলামকে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান লিখিত জবাব দাখিল করেন।

কিন্তু লিখিত অভিযোগ সন্তোষ জনক না হওয়ায় ৯ জানুয়ারী মঙ্গলবার সহকারী বিভাগীয় কমিশনার মিনু শীল পুনরায় বীরগঞ্জ উপজেলায় এসে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা আক্তারের সভাপতিত্বে বৈঠক করেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুয়াযী উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ও অনাস্থা প্রস্তাবের উপর গোপন ভোটের ব্যবস্থা করেন।

গোপন ভোটে উপজেলা পরিষদের ১৫ জন জনপ্রতিনিধির মধ্যে ১৪ জন জনপ্রতিনিধি উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ও অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দিয়ে গোপন ভোট প্রদান করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলাম উপস্থিত হননি এমনকি ভোট প্রদানও করেন নি।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সংগঠন বীরগঞ্জ উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের সভাপতি আতাহারুল ইসলাম চৌধুরী হেলাল জানান, আমরা জনপ্রতিনিধি হয়ে একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে ভোট দিয়েছি তা দুঃখ জনক। কিন্তু তিনি এ পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। বাধ্য হয়ে আমরা এ কাজ করেছি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলাম কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য