আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকেঃ ফুটপাতের পাশে ছোট্ট একটা দোকান। শীতের সন্ধ্যায় সেখানে পিঠা খেতে ভিড় জমিয়েছেন কয়েকজন তরুণ। দোকানের পাশে ফুটপাতে জ্বলছে দুটো চুলা। একটিতে মাটির খোলা, অন্যটিতে ভাপা পিঠা তৈরির পাতিল বসানো।

পিঠা তৈরির ছাঁচে চালের গুঁড়ি নিয়ে তার ওপর গুড়, নারিকেল ছিটিয়ে দিয়ে ভাপে দিচ্ছিলেন দোকানি। খোলায় বানানো হচ্ছিল চিতই পিঠা। তৈরি হতেই গরম গরম ধোঁয়া ওঠা পিঠা উঠে যাচ্ছিল হাতে হাতে। সম্প্রতি লালমনিরহাট শহরের রেল গেইটে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

শুধু রেল গেইট নয়; লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার পাড়া-মহল্লা, বিভিন্ন রাস্তার পাশে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। শীতের শুরু থেকে এসব জায়গায় অনেকটা যেনো পিঠা বিক্রির ধুম চলছে। বেশিরভাগ দোকানেই পিঠা তৈরি ও বিক্রি করছেন নিম্নবিত্ত পরিবারের পুরুষ ও নারীরা। বাড়তি কিছু উপার্জন হওয়ায় তাদের আনন্দের শেষ নেই।

সরেজমিনে লালমনিরহাটের বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, শহরের রেল গেইট, মধ্য বাজার, মিশনমোড়, কলেজ রোড, মোগলহাট আদিতমারী, নামড়ী বাজার, কালীগঞ্জের কাকিনা বাজার, সুকানদিঘী বাজার, তুষভাণ্ডার, কালীগঞ্জ বাজার, হাতীবান্ধা বাজার, পাটগ্রাম বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে সকাল-সন্ধ্যা পিঠা বিক্রি হচ্ছে।

বাহারি রকমের পিঠার মধ্যে রয়েছে চিতই, দুধ চিতই, ডিম চিতই, ভাপা, তেল পিঠা, নারিকেল পিঠা, পুলি, পাকন পিঠা ইত্যাদি। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার সুকানদিঘী বাজার এলাকার পিঠা ব্যবসায়ী আনিচুর রহমান জানান, আগে ভ্যান চালাতেন এখন পিঠা বিক্রি করছেন। শীতের সময়টাতে তিনি ভাপা পিঠাই বিক্রি করেন।

বছরের এ মৌসুমে পিঠা বিক্রি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দোকানও বেড়ে গেছে। সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পিঠা বিক্রি হয়। তবে সন্ধ্যার পর পিঠা বিক্রির ধুম পড়ে। দোকানের সংখ্যা বাড়লেও ক্রেতাদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। অফিসগামী ও বাড়ি ফিরতি মানুষরাই বেশি পিঠা কেনেন বলেও জানান।

তিনি আরও জানান, শীতের এসব পিঠার সঙ্গে পিঠা ব্যবসায়ীরা বাড়তি হিসেবে মরিচ, সরিষা ও ধনেপাতার ভর্তা ফ্রি দিয়ে থাকেন। নজরুল ইসলাম নামে একজন পিঠা খেতে খেতে বললেন, সব ধরনের ক্রেতা এখানে আসে পিঠা খেতে ও কিনতে। ব্যস্ততার কারণে বাড়িতে পিঠা খাওয়ার সময় হয়ে ওঠে না। তাই এখানে সেই স্বাদ নেয়ার চেষ্টা করছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য