তিউনিসিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে। সোমবার তিউনিসিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা তেবৌরবাতে এই প্রাণহানি হয়। নিরাপত্তা সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবরটি জানিয়েছে। ঠিক কী কারণে ওই বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হলো সেই ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই ব্যাপারে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে তিউনিসিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের দাবি, নিহত ব্যক্তি শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন, তার শরীরে আঘাতের চিহ্ণ নেই।

গত ১ জানুয়ারি জ্বালানি তেল, কিছু পণ্য, গাড়ির কর, টেলিফোন কল, ইন্টারনেট, হোটেলে থাকা খরচ ও অন্যান্য কিছু ক্ষেত্রে মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় তিউনিসিয়ার সরকার। ২০১৮ সালের বাজেটে কসমেটিক ও কৃষিজাত পণ্যসহ বিদেশ থেকে আমদানিকৃত কিছু পণ্যের শুল্ক করও বাড়ানো হয়েছে। বিদেশি ঋণদাতাদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে সেবা খাতের ব্যয় সংকুচিত করে আনার সরকারি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়। আর এই ঘোষণার পর থেকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ জোরালো হয়ে উঠে এবং তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার একটি সরকারি ভবন পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার সময় কয়েকজন তরুণকে নিরাপত্তা বাহিনী বাধা দিতে গেলে বিক্ষোভ সহিংস রূপ ধারণ করে। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সেসময় একজন নিহত হয়। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা টিএপি জানিয়েছে, সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে এবং তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, হতাহতের ঘটনা নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে তিউনিসিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, হাসপাতালে নেওয়ার পর ৫৫ বছরের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মাথা ঘুরছিলো দেখে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ওই ব্যক্তি ‘শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জটিলতায়’ ভুগছিলেন এবং তার শরীরে কোনও ‘আঘাতের চিহ্ন’ নেই। তার মৃত্যুর কারণ শনাক্ত করতে এক ফরেনসিক চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার সন্ধ্যা সাগাদ সহিংস বিক্ষোভ অন্তত ১০টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। ফারনানেহ, বোহাজলা, ওসলাটিয়া, মৌলোশে, সাবিতলা, গটার ও কেফেতে সহিংসতা হয়েছে। এত্তাদামেন এলাকায়ও বিক্ষোভ চলার সময় সহিংসতা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য