এল সালভাদরের কমপক্ষে দুই লাখ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এদের সংখ্যা আড়াই লাখও হতে পারে। বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে দুই দশক বা প্রায় ২০ বছর বসবাস করার পর তাদেরকে অতিরিক্ত দেড় বছর সময় দেয়া হয়েছে।

বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যেতে হবে। এর মধ্যে বৈধতার অন্য উপায় না পেলে তাদেরকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে। এই পরিকল্পনায় এল সালভাদরের নাগরিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা, ক্ষোভ।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে দু’দফা ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ৮ হাজার মানুষ মারা যাওয়ার পর সালভাদরের নাগরিকদেরকে বিশেষ আইনগত বৈধতা দেয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রে। সোমবার এ সম্প্রদায়কে বৈধবাবে যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিত্তিতে সুরক্ষিত মর্যাদা বাতিল করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি।

বলা হয়, এল সালভাদরের নাগরিকদেরকে যে ‘টেম্পোরারি প্রটেকটেড স্ট্যাটাস (পিপিএস)’ দেয়া হয়েছিল তা ২০১৯ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। এরপর তারা যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ হয়ে যাবেন। ফলে তাদেরকে ফিরে যেতে হবে নিজের দেশে।

যুক্তরাষ্ট্র বিতাড়নের সিদ্ধান্ত নেয়ায় হাজার হাজার নাগরিক ও তাদের পরিবারগুলোর ভবিষ্যত এক অনিশ্চয়তায় পড়েছে। তাদের একজন ক্রিশ্চিয়ান শ্যাভেজ (৩৭)। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক। আমাদের অতীত মুছে গেছে। তিনি নিজে টেক্সাসের হিউজটনে আইটি পেশায় জড়িত। বলেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পর কি করবেন তা এখনও ঠিক করতে পারছেন না। তার ভাষায়- আমার মনে হচ্ছে পরাজিত হয়েছি। সব হারিয়ে ফেলেছি।

এল সালভাদরের এল কঙ্গোর অধিবাসী ছিলেন রোসা সেসিলিয়া মার্টিনেজ। তিনি বলেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কথা শুনে আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। কিভাবে আমরা মনের বেদনা প্রকাশ করবো তা জানি না। কিভাবে মেনে নেবো বলেন যে, আমরা এই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৮ মাসের মধ্যে চলে যেতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য