বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ডাইনিং-এ অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। হলে দীর্ঘদিন থেকে নিম্ন মানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় তিনমাস থেকে হলে নি¤œমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। কারণে-অকারণে বিভিন্ন সময় হলের ডাইনিং বন্ধ রাখা হয়। হলে মেস পদ্ধতি তুলে দেয়ার পর থেকে সকালের খাবার বন্ধ রাখা হয়েছে। দুপুরের খাবার ২ টা ও রাতের খাবার ৯ টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী খাবার না পেয়ে হোটেলে খেতে বাধ্য হয়।

জানা যায়, হলে সবমিলে প্রায় ৪শ’ শিক্ষার্থী অবস্থান করে। কিন্তু ডাইনিংয়ে মাত্র এক থেকে দেড়শ’ জনের খাবার রান্না করা হয়। ফলে ১ ঘন্টার মধ্যেই খাবার শেষ হয়ে যায়। বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানিয়ে কোন প্রতিকার মেলেনি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। ডাইনিংয়ে খাবার পরিবেশনের সময় কোন ওয়ার্ডবয় থাকে না বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এতে নিজেদেরকেই খাবার-পানি সংগ্রহ করতে হয় বলে জানায় তারা।

বঙ্গবন্ধু হলের শিক্ষার্থী রাসেল জনান, নিয়ম অনুযায়ী সকালে ডাইনিং বন্ধ থাকলেও দুপুর এবং রাতে ডাইনিং খোলা থাকে। দুপুরে এবং রাতে তিন আইটেমের তরকারি থাকার কথা থাকলেও বেশির ভাগ সময় তা থাকেনা। এতে করে অনেক সময় খুব কষ্ট করে আমাদের খেতে হয়।

আরেক শিক্ষার্থী কবির বলেন, ডাইনিংয়ে দুপুর ২ টা ও রাত ৯ টার পরে খাবার পাওয়া যায়না। দুপুরের ওই সময়ে অনেকের ক্লাস-পরীক্ষা থাকে। আর অধিকাংশ শিক্ষার্থী টিউশনি নির্ভর হওয়ায় রাত ৯ টার আগে ফিরতে পারে না। ফলে হলে খাবার না পেয়ে তাদেরকে হোটেলে খেতে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী জানান, হলের এসব অব্যবস্থাপনা নিয়ে কেউ কথা বললে তার বিরুদ্ধে হল প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে হলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। হল প্রশাসন সেই অভিযোগ প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীর বিভাগীয় প্রধানকে জানিয়ে দেয়। পরে বিভাগীয় প্রধানগণ প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোষ্ট তাবিউর রহমান প্রধান বলেন, হলে বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৯৫জন। এর আগে একদিন পূর্বেই টোকেন সংগ্রহ করতে হতো, তখন বোঝা যেত কতজন খাবে। কিন্তু হলে ডাইনিং সিস্টেম চালু করার পর থেকে কতজন খাবে তা বোঝা যায় না। সুতরাং যে আগে আসবে সে খাবে। পরে খাবার না থাকলে আমাদের কিছু করার নেই।

তিনি আরো বলেন, কয়েকদিনের মধ্যে হলের ডাইনিং-এর সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ে আসলে সকলেই ডাইনিং এ খাবার পাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য