মোঃ আবেদ আলী, বীরগঞ্জ থেকেঃ বীরগঞ্জে কনকনে শীত-হিমেল হাওয়া-ঘন কুয়াসায় পশু-পাখি ও ছিন্নমূল মানুষের দুরবস্থায় পড়েছে।

উত্তরের হিমেল হওয়া ও কনকনে শীতের কারণে উপজেলার শিবরামপুর, পলাশবাড়ী, শতগ্রাম, পাল্টাপুর, সুজালপুর, নিজপাড়া, মোহাম্মদপুর, ভোগনগর, সাতোর, মোহনপুর, মরিচাসহ ১১টি ইউনিয়নের ৯৯টি ওয়ার্ড ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডসহ ১০৮টি ওয়ার্ডে প্রবল শৈত্য প্রবাহের কারনে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা সর্বনি¤œ পর্যায়ে নেমে আসায় কনকনে শীতল-হিমেল হাওয়া-ঘন কুয়াসায় পশু-পাখি ও ছিন্নমূল মানুষর দুরবস্থা এবং কাবু হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো পড়েছে চরম বিপাকে।

উপজেলায় চলতি মৌসুমের গত শনিবার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া দপ্তরের পর্যবেক্ষক মো. আজাদুর হক মন্ডল জানান, শনিবার (৬ জানুয়ারী) দিনাজপুরে চলতি মৌসুমের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত শুক্রবার (৫ জানুয়ারী) ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া গত ১ জানুয়ারী সোমবার হতে ৪ জানুয়ারী বৃহ¯পতিবার পর্যন্ত তাপমাত্রা ৯ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়ামের মধ্যে উঠানামা করে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

শৈত্য প্রবাহের কারণে শীতে কাবু হয়ে পড়েছে গোটা উত্তর জনপদ। প্রচন্ড শীতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল হয়ে গেছে। শৈত্য প্রবাহে ও ঘন কুয়াসায় দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মেলে না। দুপুরে দিকে সামান্য সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও কিছুক্ষন পর আবারো হারিয়ে যায়। প্রচন্ড শীতের কারণে শিশু, বৃদ্ধসহ নানা বয়সী মানুষ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল, বিভিন্ন ক্লিনিক, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ক্লিনিকগুলোতে শীতজনিত রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে লোকজন কাজকর্ম শেষে দ্রুত বাড়ী ফিরে যাচ্ছে। একেবারে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। রাতের বেলায় ঘনকুশায় যানবাহনগুলো চলাচল করতে বিঘœ হচ্ছে। সকালের দিকে মহাসড়ক সহ বিভিন্ন রাস্তায় যানবাহন গুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে পথ চলাচল করছে।

হাড় কাঁপানো শীতে সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগ বেড়েছে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের। বিশেষ করে শ্রমজীবি ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো বেশী বিপাকে পড়েছেন। তীব্র শীতের কারণে কাজ করতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপদে পরেছেন এসব মানুষ। শহরের ও বিভিন্ন হাট-বাজারসহ বসতবাড়ী এলাকায় অবস্থানরত ছিন্নমূল মানুষ খড়কুটো আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবৃত করছে। তারা হিমেল হাওয়া ও কনকনে শীতের কারণে মাঠে কাজ করতে পারছে না। ঠান্ডার কারনে আয় বঞ্চিত মানুষ অনাহারে-অর্ধাহারে দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছে।

প্রচন্ড শীতে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশী কষ্ট পাচ্ছে মর্মে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার জাহাঙ্গীর কবির ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাশিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মাহামুদুল হাসান পলাশ জানান, এই শীতে শিশুদের গরম কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে রাখতে ও শিশুর গায়ে যাতে শীত না লাগে সেদিকে বিশেষ যতœবান হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অফিসার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রতি বছর কুয়াশা জনিত কারনে বীজতলা ও আলুসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়। কুষি বিভাগ ফসল রক্ষার জন্য কুয়াশা প্রতিরোধে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসনের সরকারী ও বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে কিনচিৎ শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম অর্থাৎ সাগরে ঢিল ছোড়ার মত। উপজেলার ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন সমুহের ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গ ও সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো শীতবস্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসলে এসব ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশেই লাঘব হবে বলে সচেতন মহলের মতামত।

বীরগঞ্জ পৌর মেয়র ও উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ও মরিচা ইউপি চেয়ারম্যান আতাহারুল ইসলাম চৌধুরী হেলাল ও সাধারন সম্পাদক সাতোর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রেজাউল করিম শেখ জানান, একটি ইউয়িনে জনসংখ্যা ২৫/৩০ হাজার শীতার্থ মানুষের সংখ্যা হাজার হাজার কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য যে, সরকারী শীতবস্ত্র বরাদ্দ মাত্র ৩শত পিজ কার হাতে দিব ? তারা পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বরাদ্দ প্রদানের জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপের জোর দাবী জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য