বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতাঃ বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়ন ভুমি অফিসে জমির নামজারী (খারিজ) করতে ৪০ থেকে ৫০ গুণ বেশী টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট তহশীলদারের বিরুদ্ধে জনৈক আবু সাঈদ সহকারী কমিশনার (ভুমি)সহ বিভিন্ন দপ্তরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগে প্রকাশ, কাটলা গ্রামের আবু সাঈদ মল্ডল সম্প্রতি সাত শতক জমি কিনে নামজারী (খরিজ) করার জন্য উপজেলা ভুমি অফিসে আবেদন করেন। নামজারীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তহশীলদারের প্রতিবেদনের প্রয়োজন হলেও তহশীলদার বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে টাকা ছাড়া প্রতিবেদন দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। আবু সাঈদ বাধ্য হয়ে জমি বিক্রেতা দিলবর রহমানকে কাটলা ইউনিয়ন ভুমি অফিসের ভুমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশীলদার) মরিয়ম আক্তারের নিকট পাঠান।

মরিয়ম আক্তার সাত শতক জমি খারিজের জন্য ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন এবং ৪৫ হাজার টাকা চুক্তি হয়। এসময় দিলবর ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং অবশিষ্ট ২০ হাজার টাকা খারিজের পর দেওয়ার কথা হয়। ঘুষের টাকা পাওয়ার পর তহশীলদার মরিয়ম আক্তার উপজেলা ভুমি অফিসে প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং গত ১৭ ডিসেম্বর উপজেলা ভুমি অফিস থেকে জমিটি খারিজ করা হয়।

সহকারী কমিশনার (ভুমি) অনুমোদিত কাগজ নিয়ে কাটলা ইউনিয়ন ভুমি অফিসে গেলে চুক্তির ২০ হাজার টাকা ছাড়া তহশীলদার মরিময় আক্তার খতিয়ান খুলতে অস্বীকৃতি জানান। ঘুষের বাঁকী টাকা পরে দেওয়ার কথা বলে অনেক অনুনয়ের পর আবু সাঈদের নামে নতুন খতিয়ান খোলা হয়। কিন্তু ঘুষের বাঁকী ২০ হাজার টাকার জন্য তহশীদার মরিয়ম আক্তার প্রতিনিয়ত আবু সাঈদ ও দিলবর রহমানকে তাগাদা এবং খারিজ বাতিলের হুমকী দিয়ে আসছেন।

জমি খারিজের ক্ষেত্রে ২০ টাকার কোট ফি দিয়ে আবেদনের পর ডিসিআর বাবদ এক হাজার ১৫০ টাকা সরকার নির্দ্ধারিত ফি জমা দিতে হয়। কিন্তু তহশীলদার মরিয়ম আক্তার সরকার নির্দ্ধারিত ফি-এর ৪০ থেকে ৫০ গুণ বেশী টাকা আদায়ের কারণে ঘুষের ভয়ে ভুমি মালিকরা নামজারী বা খারিজ করছেন না। এতে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে এবং অতি প্রয়োজনে যারা খারিজ করতে যাচ্ছেন তারা মরিয়ম আক্তারের ঘুষের যাঁতাকলে সর্বশান্ত হচ্ছেন।

আবু সাঈদ ও দিলবর রহমানের সাথে ঘুষ লেনদেনের কথপোকথন অডিও রেকর্ড থাকা সত্বেও তহশীলদার মরিয়ম আক্তার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আবু সাঈদ বেশী বাড়াবাড়ি করছে।

উপজেলা ভুমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এনামুল হক জানান, তহশীলদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য