নিজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সব ধরণের সন্দেহ উড়িয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে নিয়ে লেখা মাইকেল ওলফের বইটিকে ‘কল্পকাহিনী’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন, লেখককে বলেছেন ‘জালিয়াত’।

অবকাশযাপন কেন্দ্র ক্যাম্প ডেভিডে রিপাবলিকান পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে দলের বাৎসরিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শেষে শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এসব বলেন, খবর বিবিসি।

‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি: ইনসাইড দ্য ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ’ বইতে ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে সন্দেহের কথা তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরাতে উঠে এসেছে বলে দাবি লেখক মাইকেল ওলফের।

বইটিতে ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্পপুত্রের সঙ্গে রাশিয়ার কর্মকর্তাদের বৈঠককে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ বলে হোয়াইট হাউজের সাবেক চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট স্টিভ ব্যাননের অভিযোগের কথা আছে। আরো আছে- নির্বাচনে জয়ের পর ট্রাম্পের হতভম্ব, বিস্মিত অবস্থা, হোয়াইট হাউজ নিয়ে ভয় পাওয়াসহ বহু অজানা তথ্য।

বইয়ের আলোচনা ট্রাম্পের সঙ্গে বাৎসরিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতাদের বৈঠকেও ছায়া ফেলেছে।

ট্রাম্প শুরু থেকেই বইটিকে ‘মিথ্যায় ভরপুর’ অ্যাখ্যা দিয়ে এসেছেন। শনিবার একই ধারাবাহিকতায় টুইটে নিজেকে ‘স্থিতিশীল প্রতিভা’ ও ‘স্মার্ট’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন তিনি।

“জীবনভর দুটো অসাধারণ সম্পদ আমাকে এগিয়ে নিয়েছে, মানসিক স্থিতিশীলতা এবং সত্যিকারের স্মার্ট আচরণ। অসাধু হিলারি ক্লিনটনও আমার বিরুদ্ধে এই ধরণের চেষ্টা চালিয়েছিল, এবং সবাই জানে সে কিভাবে ভস্মীভূত হয়েছে।প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী থেকে টেলিভিশন তারকা এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট (তাও প্রথমবারেই)। এটা কেবল স্মার্টের যোগ্যতাই অতিক্রম করে না,অতিক্রম করে প্রতিভাবানের যোগ্যতাও, খুবই স্থিতিশীল প্রতিভা,” বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় ওলফের বইটিকে ‘কল্পকাহিনী’ হিসেবে অভিহিত করেন।

“আমি সেরা কলেজে পড়েছি, কিছু কিছু পরিস্থিতিতে আমি ছিলাম চমৎকার শিক্ষার্থী, সেখান থেকে বের হয়ে শত শত কোটি ডলার বানিয়েছি, হয়েছি অন্যতম শীর্ষ ধনী; এরপর টেলিভিশনে গিয়েছি, সেখানেও যে দুর্দান্ত ১০ বছর কাটিয়েছি তার কথাও আপনারা নিশ্চয়ই শুনেছেন,” নিজের সম্বন্ধে বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্টে।

‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি: ইনসাইড দ্য ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ’ বইয়ের লেখক মাইকেল ওলফের দাবি, হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই প্রেসিডেন্টের শিশুসুলভ আচরণের কথা বলেছেন।

“তিনি তাৎক্ষণিক সন্তুষ্টি চান। কোনো কিছু পড়েনও না, শুনতেও চান না।”

ট্রাম্পের তিন ঘণ্টার আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার নেওয়ারও দাবি করছেন ওলফ। শনিবার ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

“এটা হয়নি, পুরোটাই তার কল্পনা,” বলেন তিনি।

গত সপ্তাহ থেকে বইটি নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমে তুমুল আলোচনার মধ্যে বইটি প্রকাশে বাধা দেওয়ারও চেষ্টা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন; প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার থেকে বইটির আগাম বিক্রি শুরু হয়।

বইটিতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রতিদিন মিনিটে মিনিটে কথা হয় এমন মানুষদের কথা রয়েছে বলে জানান ওলফ।

“উপদেষ্টা থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যরা পর্যন্ত শতকরা ১শ’ ভাগ মানুষই প্রেসিডেন্ট হিসাবে তার সক্ষমতা এবং বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন করেছে।”

নতুন বই নিয়ে হোয়াইট হাউজের সমালোচনার পাল্টা জবাব দিয়ে ওলফ বলেন, “প্রেসিডেন্টের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। বিশ্বে তার মতো অবস্থানে পদচারণা করা যে কারোর চেয়েই সম্ভবত তিনি কম বিশ্বাসযোগ্য।”

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গণমাধ্যমে বইটি নিয়ে তুমুল হই চই হলেও এটি ট্রাম্পের তেমন ক্ষতি করতে পারবে না; উল্টো রক্ষণশীল রিপাবলিকানদের মধ্যে তিনি আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য