মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুরে টানা শৈত্য প্রবাহে জনজীবন কাহিল হয়ে পড়েছে। রোববার তাপমাত্রা নেমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। রোববার দিনাজপুরে চলতি মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কনকনে শীতের কারণে মানুষসহ গবাদী পশু ও অন্যান্য প্রাণিকুল কাবু হয়ে পড়েছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া দপ্তরের পর্যবেক্ষক মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, রোববার (৭ জানুয়ারী) দিনাজপুরে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সম্ভবত এটাই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

গত শনিবার (৬ জানুয়ারী) ছিল ৭ দশমিক ৪ ডিগি এবং শুক্রবার ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া গত এক সপ্তাহ ধরে দিনাজপুরে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়ামের মধ্যে ছিল বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

শৈত্য প্রবাহের কারণে শীতে কাবু হয়ে পড়েছে দিনাজপুরসহ গোটা উত্তর জনপদ। প্রচন্ড শীতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিন কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও রোববার সকাল থেকে সূর্যের মূখ দেখা মেলেনি।

প্রচন্ড শীতে শিশু ও বৃদ্ধরাও কষ্ট পাচ্ছেন। শীতের শিশু, বৃদ্ধসহ নানান বয়সী মানুষ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ফলে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, দিনাজুপর জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শীতজনিত রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হসিপাতালের শিশু ওয়ার্ডে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশী শিশু ভর্তি হয়েছে বলে জানান ওয়ার্ডে কর্তব্যরত একজন নার্স।

শৈত্য পবাহের কারণে ঘনকুশায় রাতের বেলায় যানবাহনগুলো চলাচলে বিঘœ ঘটছে। মধ্যরাত থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘনকুয়াশা অব্যাহত থাকে। ফলে দিনের বেলায়ও যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে পথ চলাচল করেছে।

হাড় কাঁপানো শীতে সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগ বেড়েছে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের। বিশেষ করে দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষগুলো বেশী বিপাকে পড়েছেন। শীতের কারণে কাজ করতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম খাদ্য সংকটে রয়েছেন এসব মানুষ।

এদিকে শীতের কারণে গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে সাধারণ মানুষের ভিড় বেড়েছে। শহরের বড়মাঠে অবস্থিত কাচারী বাজারে পুরাতন শীতবস্ত্রের দোকানে ভিড় বেড়েছে। এই সুযোগে বিক্রেতারা শীতবস্ত্রের দাম বেশ বাড়িয়ে দিয়েছেন।

কাচারী বাজারের পুরাতন শীতবস্ত্র বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এর আগে বেচাবিক্রি তেমন না হলেও গত প্রায় সপ্তাহ ধরে ভাল বেচাবিক্রি হয়েছে। এমন শীত আরো কয়েক দিন থাকলে ভাল ব্যবসায় হবে বলে জানান তিনি।

দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র উদ্যোগে বিভিন্ন বেসরকারী ব্যাংকের সহযোগিতায় পক্ষ থেকে গত দুইদিনে শহরের বিভিন্ন স্থানে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গ ও সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শীতবস্ত্র নিয়ে এগিয়ে আহবান জানানো হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য