মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুরে প্রবল শৈত্য প্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা নেমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। শনিবার দিনাজপুরে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরের হিমেল হওয়া ও কনকনে শীতের কারণে মানুষসহ গবাদী-পাখি পর্যন্ত কাবু হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো পড়েছে চরম বিপাকে।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া দপ্তরের পর্যবেক্ষক মো. আজাদুর হক মন্ডল জানান, শনিবার (৬ জানুয়ারী) দিনাজপুরে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত শুক্রবার (৫ জানুয়ারী) ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া গত ১ জানুয়ারী সোমবার হতে ৪ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাপমাত্রা ৯ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়ামের মধ্যে উঠানামা করে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

শৈত্য প্রবাহের কারণে শীতে কাবু হয়ে পড়েছে গোটা উত্তর জনপদ। প্রচন্ড শীতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। শৈত্য প্রবাহের কারণে দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মেলে না। দুপুরে দিকে সামান্য সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও কিছুক্ষন আবারো হারিয়ে যায়।

প্রচন্ড শীতের কারণে শিশু, বৃদ্ধসহ নানান বয়সী মানুষ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ফলে দিনাজপুর এম অঅব্দু রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, দিনাজুপর জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শীতজনিত রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে লোকজন কাজকর্ম করে দ্রুত বাড়ী ফিরে যাচ্ছে। একেবারে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। রাতের বেলায় ঘনকুশায় যানবাহনগুলো চলাচলে বিঘœ ঘটছে। সকালের দিকেও রাস্তায় যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে পথ চলাচল করতে দেখা গেছে।

এদিকে হাড় কাঁপানো শীতে সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগ বেড়েছে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো বেশী বিপাকে পড়েছেন। তীব্র শীতের কারণে কাজ করতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিে বিপদে পড়েছেন এসব মানষ। শহরের রেল স্টেশনসহ বস্তি এলাকায় অবন্থানরত ছিন্নমূল মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রচন্ড শীতে শিশু ও বৃদ্ধরাও কষ্ট পাচ্ছেন।

দিনাজুপর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. ওয়ারেস আলী সরকার এই শীতে শিশুদের গরম কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে রাখতে ও শিশুর গায়ে যাতে শীত না লাগে সেদিকে বিশেষ যতœবান হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম। দিনাজপুরসহ অন্যান্য এলাকার ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গ ও সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শীতবস্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসলে এসব ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে বলে মনে করেন দিনাজপুরবাসি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য