উগ্র তাকফিরি জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশ ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। দায়েশের মিশর শাখা একটি নতুন হত্যাকাণ্ডের ভিডিও প্রকাশ করে এই ঘোষণা দিয়েছে।

বুধবার প্রকাশিত ভিডিওতে কমলা রঙের পোশাক পরিহিত এক বন্দিকে গুলি করে হত্যা করতে দেখা যায়। দায়েশ দাবি করেছে, হতভাগ্য ব্যক্তি হামাসের সামরিক শাখাকে সহযোগিতা করেছিল।

ভিডিওতে একজন জঙ্গি ঘোষণা করে, “হামাসের কাছে কখনই আত্মসমর্পন করবে না। তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক, সাইলেন্সড পিস্তল এবং বোমা ব্যবহার করবে। তাদের আদালত ও নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলা চালাবে; কারণ, এগুলো তাদের ক্ষমতা ধরে রাখার মূল চালিকাশক্তি।”

হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা উপত্যকার সীমান্ত সংলগ্ন সিনাই উপত্যকায় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হামাস যখন মিশরের নিরাপত্তা বাহিনীকে সহযোগিতা করছে তখন এই ভিডিও প্রকাশিত হলো। গত অক্টোবরে সিনাই থেকে চারজন সিনিয়র দায়েশ সন্ত্রাসীকে আটক করেছিল হামাস।

উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী দায়েশ ২০১৪ সাল থেকে ইসরাইলের সীমান্তবর্তী সিরিয়ায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালালেও কখনও ইসরাইলে হামলা চালায়নি বা হামলা চালানোর নির্দেশ দেয়নি; বরং সিরিয়ায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে আহত দায়েশ জঙ্গিদেরকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। অবশ্য তেল আবিবের পৃষ্ঠপোষকতা সত্ত্বেও ২০১৭ সালের শেষ নাগাদ সিরিয়া ও ইরাক থেকে উৎখাত হয়ে গেছে দায়েশ।

মুসলিম বিশ্বের প্রধান শত্রু ইসরাইলের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়েই যে দায়েশ সিরিয়া ও ইরাকে তাণ্ডব শুরু করেছিল তা আরেকবার প্রমাণিত হলো তাদের হামাস বিরোধী ঘোষণা দেখে। গত ৩০ বছর ধরে হামাস ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য