আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট থেকে: মামলায় হেরে যাওয়ায় নিজেদের ঘরে নিজেরাই আগুন লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে জব্দ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দিনগত মধ্যরাতে নিজের গোয়াল ঘরের এক কোনায় আগুন লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে জব্দ করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের দক্ষিন বালাপাড়া চৌধুরী মসজিদ এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হামিদুল, নুর হক ও বুলেট গত প্রায় ৩ মাস আগে সওদা কিনতে পাশ্ববর্তি চাপারহাট যান।

কেনাকাটা শেষে একটি অটোবাইকে বাড়ি ফেরার পথে এক সড়ক দুর্ঘটনায় হামিদুল ও নুর হক আহত হন। এ দুর্ঘটনায় হামিদুলের অস্ত্রপাচার করে একটি পা কেটে ফেলতে হয়।

এ সময় চিকিৎসার জন্য নুর হক তাকে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন এবং তার পরিবারের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ঋন নেয় হামিদুল। সে টাকা ফেরৎ দিতে অস্বীকার করায় নুর হকের মা কোহিনুর বেগম বাদি হয়ে মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

সেই মামলায় তিনটি নোটিশ প্রদান করেও আসামীদের আদালতে হাজির করতে না পেয়ে বাদিনীকে উচ্চ আদালতে মামলার পরামর্শ দিয়ে ৩১ ডিসেম্বর প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী। বাদিনী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলায় হেরে যাওয়ার আশংকায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দিনগত মধ্যরাতে নিজের গোয়াল ঘরের এক কোনায় আগুন লাগিয়ে আগুনের নাটক করেন হামিদুলের পরিবার।

এ ঘটনায় পরদিন বাদিনী ও তার পরিবারের ৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদিতমারী থানায় ঘর জ্বালাইয়ের মাধ্যমে এক লাখ টাকা ক্ষতি সাধনের অভিযোগ দায়ের করেন হামিদুলের স্ত্রী মোহসেনা বেগম। এ অভিযোগে বলা হয় আসামীরা দলবদ্ধ হইয়া তাদের ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে তারা তাৎক্ষনাত নিজেরাই আগুন নিভায়ে ফেলেন। এতে কিছু ব্যবহারিত কাপড় ও ছেলে মেয়েদের বই পুড়ে যায়। মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী জানান, আগুন লাগাতে কেউ দেখে নি। তাছাড়া পেট্রোল ঢেলে আগুন দিলে পুরো বাড়ি পুড়ে যাওয়ার কথা সেখানে সামান্য দুটি কাঠ পুড়ে যায়।

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এটা সাজানো ঘটনা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) হরেশ্বর রায় বজানান, তুচ্ছ ঘটনায় নিছক অগ্নিকান্ডের নাটক মনে হওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা কোন আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ার সুপারিশ করেছেন। তাই অাগুন দেয়ার অভিযোগে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য