আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট থেকে: ‘ওরে বাবা, এতো ঠান্ডা কেনো। শৈত্যপ্রবাহ নামলো নাকি? শক্রবার সকালে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার সুকানদিঘী বাজারে চায়ের দোকানে চা খেতে আসা জিয়ারুল ইসলাম কথা গুলো বলছিলেন। এ কথা শুধু তারেই না। লালমনিরহাটের অনেকেরই।’

তারা বলছেন, গোটা ডিসেম্বর মাস জুড়ে শীত আছে, শীত নেই এমন আবহাওয়া থাকায় অনেকে এখনও গরম কাপড় গায়ে ওঠাননি কিন্তু গত দুদিন ধরে কনকনে শীতে জবুথবু হয়ে গেছেন। বিশেষ করে তিস্তা পারের হতদরিদ্র মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। বিশেষ করে চর ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের অবস্থা চরম শোচনীয়। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে।

উত্তরের কোথাও সূর্য দেখা যাচ্ছে খুব অল্প সময়ের জন্য। কুয়াশার পাশাপাশি তীব্র শৈত্য প্রবাহ হচ্ছে। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বেরোচ্ছে না। ঘন কুয়াশা ও তীব্র শৈত্য প্রবাহের কারনে লালমনিরহাটের তিস্তা পারের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত মঙ্গলবার ভোর রাত থেকে শুরু হয় ঘন কুয়াশার সঙ্গে তীব্র হিমেল হাওয়া। ঘন কুয়াশার কারনে শক্রবার দিনে লালমনিরহাট -ঢাকা মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।

বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। শীতে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। সবচেয়ে বেশী প্রভাব পড়েছে বৃদ্ধ ও শিশুদের মধ্যে। বিশেষ করে রেল স্টেশনসহ জেলার বিভিন্নস্থানে অবস্থানকারী ছিন্নমুল মানুষগুলো শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। শীতার্ত মানুষগুলো এক টুকরো গরম কাপড়ের জন্য তাকিয়ে আছে সরকার ও বিত্তবান লোকদের দিকে।

এদিকে হরেক করমের শীতবস্ত্রের পসরা নিয়ে বসেছে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। জেলা শহরের মিশন মোড়, রেল স্টেশন, জজ কোর্ট, বিডিআর গেট এলাকায় বসেছে অর্ধশতাধিক অস্থায়ী দোকান। তবে এ সকল শীতবস্ত্রের দাম বেশি হওয়ায় অভাবী লোকগুলো কিনতে পারছে না তাদের প্রয়োজনীয় সেসব শীতবস্ত্র। তীব্র শীতের কারনে জেলায় শীতবস্ত্র বিতরন জরুরী হয়ে পড়েছে। এভাবে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শৈত্য প্রবাহ অব্যাহত থাকলে দেখা দিতে পারে ডায়রিয়াসহ শীতজনিত নানা রোগ-ব্যাধী।

জেলার কোথাও সরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণের খবর পাওয়া গেলেও বা বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু কিছু এলাকায় শীতার্তদের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল।
জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন সুত্রে জানা গেছে, শীতবস্ত্রের চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পত্র প্রেরন করা হয়েছে। এসব শীতবস্ত্র আসলেই তা বিতরন করা হবে বলে জানা গেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য