দিনাজপুর সংবাদাতাঃ তেভাগা’র চেতনা ভুলিনাই ভুলবনা এমন শ্লোগানে ৪ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দিনাজপুরে পালিত হলো ঐতিহাসিক তেভাগা দিবস। দিবসটি স্মরণে তেভাগা আন্দোলনের প্রথম শহীদ সমিরুদ্দিন ও শিবরাম মাঝির শহীদীয় স্থান চিরিরবন্দর উপজেলার তালপুকুর-বাজিতপুরে বিভিন্ন কর্মসুচি গ্রহণ করে তেভাগা চেতনা পরিষদ। কর্মসুচির মধ্যে ছিল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, আলোচনা সভা, বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন, বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলতাফ হোসাইন এবং সদস্য সচিব রেয়াজুল ইসলাম রাজুর নেতৃত্বে তেভাগা চেতনা পরিষদ, ওয়ার্কস পার্টি, জাসদ (ইনু), বাসদসহ বিভিন্ন সংগঠণ তেভাগার বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন কর্মসুচির শুরুতে। শহীদ সমিরুদ্দিনের নাতি হবিবর রহমান, নাতনী জ্যো¯œাসহ তার পরিবারের বর্তমান সদস্যরাও তেভাগার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।

এরপর তেভাগা চেতনা পরিষদের স্থানীয় কমিটির আহ্বায়ক বিশ^নাথ রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তাগণ অভিযোগ করেন, যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কৃষক, ক্ষেতমজুর সমাজ তেভাগার দাবীতে শাসক, শোষক, জমিদার, জোতদারদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে গিয়ে বৃটিশ পুলিশের হাত জীবন দিয়েছিলেন তা আজও অর্জিত হয় নাই।

তেভাগা চেতনা পরিষদ, দিনাপুর এর যুগ্ম আহবায়ক আলতাফ হোসাইন বলেন, কৃষক সমাজ এখনো শোষণ, বঞ্চন্,া অত্যাচার, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আগে তারা শত্রুকে চিনতে পারত বলে তীর মেরে রুখে দাঁড়াত। এখন শত্রুকে দেখা যায়না। এখন খারাপ বীজ, ভেজাল সার, কীটনাশক আর উন্নয়নের নামে ঋণ দিয়ে শত্রুরা দূর থেকে কৃষককে শোষণ ও নির্যাতন করার পথ বেছে নিয়েছে। এখন মাত্র ২২জন মিলার কারসাজির মাধ্যমে চাউলের বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার মুনাফা লুটে নিচ্ছে। কিন্তু কৃষক যখন ধান বিক্রি করছে, তখন ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেনা। অথচ আড়ালে থাকা এই শত্রু এত শক্শিালী যে তাদের বিরুদ্ধে কৃষক কিছু করতে পারছে না।

জাসদের শহিদুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় যাওয়ার কথা বলেন, কিন্তু কৃষকের পক্ষে কোন কথা বলেন না। কৃষকের পক্ষে কথা বলার মত কেউ নাই। তাই কৃষককে সংগঠিত হয়ে ন্যায্য দাবী আদায়ের পথ বেছে নিতে হবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির হবিবর রহমান বলেন, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক সমতা সৃষ্টি হচ্ছেনা। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষক খাদ্য উৎপাদন করে কিন্তু তার ভাগ্যের বদল হয়না, অথচ ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেও লুটেরা গোষ্ঠী পার পেয়ে যাচ্ছে।

সভায় আরো আলোচনা করেন দিনাজপুর নাট্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রহমান রেজু, জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বাদল, বাসদ নেতা সারোয়ারুল হাসান ক্লিপটন, মনিরুজ্জামান মনির, তেভাগা চেতনা পরিষদের স্থানীয় কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার সফিক হাসান, সাংস্কৃতিক কর্মী রবিউল আওয়াল খোকা, বাসদ নেতা সন্তোষ গুপ্ত প্রমুখ।সভা পরিচালনা করেন তেভাগা চেতনা পরিষদের সদস্য সচিব রেয়াজুল ইসলাম রাজু। তিনি ঘোষণা দেন যে, তেভাগা দিবস উপলক্ষে আগামী বছর হতে মেলার আয়োজনসহ তিনদিন ব্যাপী কর্মসুচি গ্রহণ করবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য