নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় আদালত কতৃক নিষেধাজ্ঞা করা জমি রেজিষ্ট্রির অভিযোগ উঠেছে। বিবদমান ওই তফশীলের জমি রেজিষ্ট্রি না করতে জমির মুল মালিক উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার বরাবর আবেদন করার পরেও সাব রেজিষ্ট্রার তড়িঘড়ি করে দলিল সম্পাদন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে।

জমির মালিক উপজেলার ছোট রাউতা কাজী পাড়া এলাকার ময়নুল হক অভিযোগ করে জানান, একই উপজেলার মৌজা পাঙ্গা গ্রামে এসএ ৯৮৯ খতিয়ানে একাদিক দাগে তার ১.৯২ একর জমি রয়েছে। ওই তফশীলভুক্ত জমি যা দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে সে ও তার পরিবার আপোষ বাটোয়ারা সুত্রে এককভাবে ভোগ দখল করে আসছেন। যা সর্বশেষ বিএস খতিয়ানেও তারা নিজের নামে নামভুক্ত করেছেন।

তিনি জানান, সম্প্রতি খামার বামুনিয়া গ্রামের উকিল উদ্দিনের দুই ছেলে আবু হোসেন ও মানিক হোসেন গোপনীয়ভাবে ওই জমি খারিজ করে বিক্রির পায়তারা করে। পবর্তীতে ময়নুল হক জানতে পারে তাদের খারিজ বাতিলের আবেদন করেন। যা এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

এ ছাড়া জেলা জজ আদালতে ওই তফশীলের জমি সংক্রান্ত ১০/১৭ নম্বরের একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছেন। এ বিচারাধীন মামলায় আদালত গত ০৯/০৫/১৭ তারিখে ৯৮৯ নং খতিয়ানের উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করেন। যার প্রেক্ষিতে আমি ডোমার সাব-রেজিষ্ট্রার বরাবর দলিল সম্পাদন না করতে একটি আবেদন করি। ময়নুল হকের অভিযোগ আমার আবেদন ও আদালতের নিষেধাজ্ঞার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ডোমার সাব-রেজিষ্টার শিরিনা খাতুন গতকাল বুধবার ওই তফশীলের জমি বিক্রির দলিল সম্পাদন করেন। দলিল নং-৪৫, তারিখ-০৩/০১/২০১৮।

কয়েকজন জমি ক্রেতা ও বিক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিটি দলিল বাবদ অফিস খরচের নামে ৪শ হতে হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। যা অফিসের নকল নবীশ সুশীল চন্দ্র আদায় করেন। কোন সাধারন দর্শনার্থী বা কোন জমির মালিক কখনোই সাব-রেজিষ্টারের সাথে দেখা করার সুযোগ পান না। প্রথমে স্থানীয় দলিল লেখক সমিতির নেতাদের কাছে তাদের দেখা করার কারন বা সমস্যা বর্ণনা করতে হয়।

তারা সন্তুষ্ট হলে তবেই দেখা পাওয়া যায় সাব-রেজিষ্টারের অন্যথায় সেখান হতে বিদায় নিতে হয় সাধারনকে। পুরো অফিস জিম্মি হয়ে পড়েছে ওই সমিতির কাছে। যেন দেখার কেউ নেই। বিজয় দিবসের (১৬ ডিসেম্বর) শহীদ বেদীতে ফুলের শ্রদ্ধা জানাতে জুতা পায়ে উঠে নানা বিতর্কের জন্ম দেয় ওই সাব-রেজিষ্টার শিরিনা খাতুন। এতে মুক্তিযোদ্ধা ও উপস্থিত সাধারন মানুষজনের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রীড়া সৃষ্টি হয়েছিল।

এ ব্যাপারে গত দুই দিন ধরে ডোমার সাব-রেজিষ্টার শিরিনা খাতুনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের সাথে দেখা না করায় তার বক্তব্য জানা যায় নি।

এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে ফাতিমা সাংবাদিকদের জানান, বিবদমান ওই তফশীলের জমি দলিল সম্পাদন না করতে তাকে অনুরোধ করা হলেও তিনি তা অমান্য করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য