মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া প্রভাব কমাতে সিরিয়ায় যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল গাডি আইজেনকট। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিয়াদের আধিপত্য কমাতেই এই পরিকল্পনা করছেন তারা। বুধবার হেরজিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি বলেন, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন, বাহরাইন ও গাজা ‍উপত্যকায় শিয়ারা প্রভাব বিস্তার করছে।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি এলাকায় আমাদের বিনিয়োগ বেড়েছে। হামাস ও জিহাদি কর্মকাণ্ড মোকাবিলা করতে আমরা ১০০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট তৈরি করেছি।

ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সিরিয়ায় বর্তমানে ২ হাজার ইরানি পরামর্শক ও ৮ হাজার হিজবুল্লাহ সেনা রয়েছে। এছাড়া ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে ইরান সমর্থিত ১০ হাজার সেনা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আইজেনকট বলেন, ‘আমরা হিজবুল্লাহ ও শিয়া সেনাদের এড়িয়ে যেতে পারি না। আমরা সামরিকভাবে ইরানকে মোকাবিলার চেষ্টা করছি। ইউরোপ ও ইসরায়েলের জন্য সিরিয়ার চলমান অবস্থা নেতিবাচক।’

সিরিয়ায় ২০১৭ সালে ১০ হাজার ২০৪ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এসএনএইচআর-এর প্রতিবেদন অনুসারে, নিহতদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২৯৬ জন আর নারী ছিলেন ১ হাজার ৫৩৬ জন। মোট নিহতের মধ্যে ৪ হাজার ১৪৮ জন যাদের মধ্যে ৭৫৪ শিশু ও ৫৯১ জন নারীর মৃত্যু হয়েছে সরকারি বাহিনী ও সমর্থকদের নির্যাতন ও হামলায়।

সিরিয়ায় ২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে আড়াই লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। সিরিয়ার চলমান সংকট নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিপরীত ধর্মী। বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

এ জন্য তারা আসাদ সরকারের বিদ্রোহ ঘোষণাকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। তবে আসাদ সরকারের দাবি, আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে যুক্তরাষ্ট্র মূলত বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করতে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। আর রাশিয়া বাশার আল আসাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। আসাদ সরকারের সমর্থনে রাশিয়া-ইরানও আইএস এবং বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য