২০১৮ সালের শুরুতেই ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ১৭ বছরের এক ফিলিস্তিনি কিশোর। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানান, বুধবার দখলকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরের কিশোর মুসাব ফিরাজ আল-তামিমিকে গুলি করে হত্যা করে ইসরায়েলের সেনারা।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া আকরা জানান, দখলদার বাহিনীর সেনারা মুসাবের গলায় গুলি করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালের পরপরই তার মৃত্যু হয়।

মুখপাত্র জানান, ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সময় তাকে গুলি করা হয়।

ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলকে দেশটির সেনাবাহিনী জানায়, নিহত মুসাবের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তবে আল জাজিরার পক্ষ থেকে ইসরায়েলি সেনাদের দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

ইসরায়েলি সেনাদের এক মুখপাত্র জানান, মুসাবের হত্যাকাণ্ডের সময়কার পরিস্থিতি তদন্ত করা হবে।

নিহত মুসাবে তামিমি পরিবারের সদস্য এবং নাবি সালেহ গ্রামের পাশেই বাস করতেন। এই গ্রামেরই মেয়ে আহেদ তামিমি ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। ১৯ ডিসেম্বর ইসরায়েলি সেনারা আহেদ তামিমিকে গ্রেফতার করে। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছে।

আহেদ তামিমির বাবা অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল তামিমির মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্যই তাকে কারাগারে রাখতে চায় দখলদার বাহিনী।

৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনিরা প্রতিবাদ করে আসছেন। বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছেন। এ পর্যন্ত ১৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছে।

মুসাবের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদের কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। তবে ২০১৮ সালে ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক প্রথম নিহত ফিলিস্তিনি তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য