ফুলাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অপসারনের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন, কলেজের ছাত্রলীগ।

আজ বুধবার সকাল ১১টায় কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মিরা ব্যানর,ফেস্টুন নিয়ে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতি‘র অভিযোগ এনে, তার অপসারনের দাবিতে ঘন্টা ব্যাপি এই বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। ছাত্রলীগের ডাকা বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আওয়ামীলীগ পন্থি শিক্ষক পরিষদের প্রতিনিধি‘রা শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্ততা প্রকাশ করে বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহন করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সভাতি তৌহিদুজ্জামান রাসেল, সাধরাণ সম্পাদক রাজিউল ইসলাম রাজু, সহ-সভাপতি এএসএম নাসিম মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কোরবান আলী, হল শাখার সভাপতি আব্দুল মতিন,পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মুশফিকুর রহমান রিয়াদ প্রমূখ।

মানববন্ধনে আন্দোলনকারী ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা বলেন,ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের সাথে দূরব্যবহার,ভর্তির সময় অতিরিক্ত ফি আদায়,পরিচয় পত্র প্রদানে গড়িমশি করছে, তারা বলেন বার বার তাগিদ দিয়েও মহিলা হোস্টেল ব্যবস্থা করা হয়নি, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কর্তৃক কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত হলরুম নিজেই ৬টি রুম দখল করে বসবাস করছে, সে কারনে দুর থেকে আসা শিক্ষার্থীদের থাকার জায়গা সংকট হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের সুবিধর বিষয়ে তার কোন প্রকার তদরকি নেই,কলেজে ক্লাস নিয়মিত হয় না। সে কারনে আমরা কলেজের সকল ছাত্র-ছাত্রীরা এই ভারপ্র্পত অধ্যক্ষের অপসারন চাই।

মানবন্ধন শেষে কলেজ শিক্ষক পরিষদের শিক্ষকসহ এক বিক্ষোভ বের করা হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব ও সহ-সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন,এই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে কলেজের তৃতিয় শ্রেনীর কর্মচারীদের পাশপাশি শিক্ষকদের সাথে অশালিন আচরন ও কথায় কথায় শিক্ষকদের শো-কোজ এবং বেতন কর্তনের হুমকি দিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত অন্যায় ভাবে ৪ জন শিক্ষককে শো-কোজ করা হয়েছে।

শিক্ষকের সাথে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মনমালিন্নতার করনে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যহত হওয়ায় এবার এইচ,এস,সি পরিক্ষায় ফুলবাড়ী সরকারী কলেজ থেকে একটিও জিপিএ ৫ পায়নি। কলেজের জায়গা বেদখল,বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম সঠিক ভাবে পরিচালনার অভাবে এই অতিহ্যবাহি শিক্ষা প্রতিষ্টান আজ হুমকির মূখে। অনতিবিলম্বে এই অযোগ্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অপসারন করে যোগ্য অধ্যক্ষ দিয়ে প্রতিষ্টানের পূর্বের অবস্থান ফিরিয়ে জন্য স্থানীয় এমপি ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর আশুহস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ,রফিকুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি, তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শুরু থেকে কলেজিটির অবকাঠামোগত সংকট, কলেজটির পুরাতুন ভবনটিকে ছাত্র হোসটেল হিেিসবে ব্যবহার করা হচ্ছে, ছাত্রী হোস্টেলের চন্য কোন ভবন নির্মান হয়নি, এমন কি সরকারী কোন বরাদ্ধও আসেনি।

শিক্ষকদের বসবাসের কোন ভবন নাই, তাই ছাত্র হোসটেলের কয়েকটি রুমে শিক্ষকেরা বসবাস করছে। এর মধ্যে আন্দোলনকারী ছাত্ররা একটি রাজনৈতিক দলের কর্মি তারা প্রায় সময় ছাত্রভর্তি ও পরিক্ষার ফরম পুরনের সময় অনৈতিক সুবিদা নিতে আসে, তাদের ইচ্ছামত সুবিধা না পেলে আন্দোলন করে, আবার হুমকিও দেয়, তিনি আরো বলেন ছাত্রলীগের আন্দোলনে যোগ দেয়া এক শিক্ষককের বিরুদ্ধে মাদক গ্রহনের অভিযোগ আছে, সে মাদক গ্রহন করতে গিয়ে একবার পুলিশের হাতে ধরাও পড়েছিল, এজন্য তাকে হুশিয়ার করা হয়েছে। তাই ছাত্রদের আন্দোলনে যোগ দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য